Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

২৫০ বছরের জন্য ‘সময়’ বন্দি করল আমেরিকা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই,২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
২৫০ বছরের জন্য ‘সময়’ বন্দি করল আমেরিকা!

ছবি: সংগৃহীত

 বিশ্বজুড়ে যখন ফুটবল বিশ্বকাপের জমজমাট উন্মাদনা চলছে, ঠিক তখনই সুদূর আমেরিকায় ঘটে গেল এক ঐতিহাসিক ও কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা। বর্তমান যুগের যাপন, সংস্কৃতি, চিন্তা ও আবেগ—সবকিছুকে একটি বিশেষ পাত্রে ভরে মাটির নিচে লুকিয়ে ফেলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। উদ্দেশ্য একটাই, আজ থেকে ঠিক ২৫০ বছর পর পৃথিবীর মানুষ যেন জানতে পারে যে, ২০২৬ সালে তাদের পূর্বপুরুষেরা কেমন ছিল, কী ভাবত কিংবা কেমন প্রযুক্তির ব্যবহার করত। বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ পাত্র বা আধারকে বলা হয় ‘টাইম ক্যাপসুল’।

গত ৪ জুলাই ছিল আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। এই বিশেষ ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশটির পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া শহরের মাটির প্রায় ১০ ফুট গভীরে এই ‘টাইম ক্যাপসুল’টি পুঁতে দেওয়া হয়েছে। আগামী আড়াই শতক অর্থাৎ দীর্ঘ ২৫০ বছর এটি মাটির নিচের অন্ধকারে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে দূর ভবিষ্যতের মানুষ আজ থেকে ঠিক ২৫০ বছর পর, অর্থাৎ ২২৭৬ সালের ৪ জুলাই আমেরিকার ৫০০তম স্বাধীনতা দিবসে মাটির নিচ থেকে এটি তুলে প্রথমবার উন্মুক্ত করবে।

কী এই টাইম ক্যাপসুল এবং কেন এই আয়োজন? টাইম ক্যাপসুল হলো মূলত এমন এক ধরনের মজবুত পাত্র বা আধার, যার ভেতর বর্তমান সময়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ছবি, চিঠি বা ব্যবহার্য জিনিসপত্র জমিয়ে রাখা হয়। এটি মাটির নিচে এমনভাবে সংরক্ষণ করা হয় যেন শত শত বছর পরও ভেতরের জিনিসগুলো নষ্ট না হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নিজেদের সময়কে অক্ষতভাবে পৌঁছে দেওয়ার এই অভিনব উদ্যোগটি কিন্তু হুট করে নেওয়া হয়নি। আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের জন্য দেশটির সরকার ‘আমেরিকা২৫০ কমিশন’ নামে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল। আজ থেকে ১০ বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৬ সালেই মার্কিন সংসদে এই টাইম ক্যাপসুল নির্মাণের বিশেষ আইনটি পাস করা হয়। সেই থেকে শুরু হয় এর নকশা ও নির্মাণের তোড়জোড়।

৪০৮ কেজির সিলিন্ডার ও আধুনিক বিজ্ঞান ভূগর্ভের ভেজা মাটি, অতিরিক্ত আর্দ্রতা, পানি কিংবা বাতাসের হাত থেকে ভেতরের উপাদানগুলোকে রক্ষা করা ছিল বিজ্ঞানীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সাধারণ কোনো পাত্রে কাগজ বা চিঠি রাখলে তা কয়েক বছরের মধ্যেই পচে গলে নষ্ট হয়ে যাবে। এই সমস্যার সমাধানে প্রকৌশলীরা তৈরি করেছেন প্রায় ৪০৮ কেজি ওজনের একটি বিশালাকার সিলিন্ডার, যা অত্যন্ত উচ্চমানের স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি। সিলিন্ডারের ভেতরে জিনিসপত্র ঢোকানোর আগে বাতাস ও ভেতরের আর্দ্রতা সম্পূর্ণ নিষ্কাশন করে নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে, যাতে ভেতরের শুষ্কতা বজায় থাকে। এরপর এর মুখে লাগানো হয়েছে একটি নরম ধাতব সিল এবং পুরো সিলিন্ডারের বাইরে পরানো হয়েছে আরও একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষামূলক আস্তরণ। এই ত্রিস্তর বিশিষ্ট সুরক্ষার কারণে আগামী ২৫০ বছরেও এক ফোঁটা পানি বা বাতাস এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না।

ভেতরে কী কী লুকিয়ে রাখলেন মার্কিন নাগরিকেরা? এই বিশালাকার ক্যাপসুলের ভেতরে ঠিক কী রাখা হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। ‘আমেরিকা২৫০ কমিশন’ মার্কিন নাগরিকদের ওপর কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম চাপিয়ে দেয়নি; বরং দেশের সাধারণ মানুষকে তাদের পছন্দের যেকোনো জিনিস উপহার দেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিল। ফলে আমেরিকার ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়ার সাধারণ মানুষ এতে নিজেদের আবেগ ও ইতিহাসের ছোঁয়া পাঠিয়েছেন।

সিলিন্ডারের ভেতরে তৈরি করা আলাদা আলাদা প্রকোষ্ঠে বা ডয়ারে জমা পড়েছে হাজারো মানুষের নিজের হাতে লেখা আবেগঘন চিঠি। সেখানে তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উদ্দেশে নিজেদের ভালোলাগা, ভালোবাসা ও যাপনের কথা লিখেছেন। কেউ পাঠিয়েছেন নিজের পছন্দের কবিতার পঙ্‌ক্তি, কেউ আবার প্রিয় ব্যান্ডের গানের কলি কাগজে লিখে সেই সিলিন্ডারে রাখার জন্য দিয়েছেন। এছাড়া রয়েছে এই যুগের নানা রঙের পোস্টার ও পোস্টকার্ড।

তবে এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দুটি বৈপরীত্য দেখা গেছে নিউ হ্যাম্পশায়ার ও ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের উপহারে। অতীতকে সম্মান জানিয়ে নিউ হ্যাম্পশায়ারের বাসিন্দারা যুক্ত করেছেন আমেরিকার আড়াইশ বছর আগের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের একটি বিশেষ ও দুর্লভ তথ্যতালিকা। অন্যদিকে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রাণকেন্দ্র ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা ইতিহাস নয়, বরং ভবিষ্যৎকে বন্দি করতে চেয়েছেন। তারা বর্তমান যুগের সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর কাছে একটি প্রশ্ন করেছিলেন—"২০২৬ সাল থেকে ২৫০ বছর পর, অর্থাৎ ২২৭৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থা কেমন হবে?" আধুনিক এআই সেই দূর ভবিষ্যতের ক্যালিফোর্নিয়া নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী ও উত্তর দিয়েছে, তার একটি হুবহু ফোটোকপি তারা সিলিন্ডারে পুরে দিয়েছেন ২২৭৬ সালের মানুষের জন্য।

জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও নানা আন্তর্জাতিক সংকটের মুখে ২২৭৬ সাল পর্যন্ত মানবসভ্যতা বা পৃথিবী আদৌ কতটা অক্ষত থাকবে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা সংশয় প্রকাশ করতেই পারেন। তবে যদি পৃথিবী তখনও টিকে থাকে এবং মানুষ বেঁচে থাকে, তবে আজ থেকে ২৫০ বছর পরের ফিলাডেলফিয়াবাসী যখন এই ক্যাপসুলটি মাটির নিচ থেকে তুলবে, তখন ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের এই উন্মাদনাময় সময়, মানুষের এই চিন্তাভাবনা আর এআই-এর ভবিষ্যদ্বাণী তাদের কাছে এক জাদুকরী রূপকথা ও বিস্ময় হয়ে ধরা দেবে—তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)