বিশেষ প্রতিবেদক
শুরু হলো ৩৬জুলাই গণনা। ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলন, জুলাই বিপ্লব তথা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মারক মাস। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পথ ধরে ৩৬ জুলাই তথা ৫ আগস্ট দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চেপে থাকা স্বৈরাচারী সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশে নতুন গণতান্ত্রিক পথযাত্রা শুরু হয়। ঐতিহাসিক এই অভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত যশোরের ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ চরম অবহেলা ও উপেক্ষায় পড়ে রয়েছে। রক্তাক্ত চব্বিশের জুলাই পেরিয়ে আজ ২০২৬ সালের জুলাই শুরু হয়েছে। এর মধ্যে অতিবাহিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাস এবং বর্তমানে দেশে দায়িত্ব পালন করছে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। তবে সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি জুলাইয়ের স্মৃতি।
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাইয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে যে সব উদ্যোগ নিয়েছিল, এই স্মৃতিস্তম্ভটি তার একটি। যশোর শহরের কালেক্টরেট ভবনের সীমানার বাইরে বকুলতলায় সে সময় এটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্মারকটি এখন অপাঙ্ক্তেয় ও জীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে এটি ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। ক্ষয়ে যাওয়া বাঁশের বেড়া দিয়ে কোনোমতে ঘিরে রাখা হয়েছে ঐতিহাসিক এই স্মারক। স্তম্ভটির পাদদেশে ময়লার স্তূপ ও নোংরা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যে পাথরে খোদাই করে স্মৃতিস্তম্ভটি প্রতিষ্ঠার বিবরণ লেখা হয়েছিল, যত্নের অভাবে তার ওপর থেকে অক্ষরগুলো উঠে গেছে। স্মৃতিস্তম্ভের চারিপাশে যানবাহন থামিয়ে রাখার কারণে চারপাশের পরিবেশ আরও ঘিঞ্জি হয়ে উঠেছে। এটি রক্ষণাবেক্ষণের যেন কেউ নেই, অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে ঐতিহাসিক এই স্মারক।
এ নিয়ে তীব্র আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যশোরে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রাশেদ খান। যত্ন ও সুরক্ষার অভাবে অবহেলায় পড়ে থাকা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ রক্ষায় ব্যর্থতার দায় থেকে তিনি সরকার, প্রশাসন বা পৌরসভা কাউকেই বাদ দেননি। আন্দোলনের অনেক অপূর্ণতার কথা জানিয়ে সমন্বয়ক রাশেদ খান বলেন, ‘অন্তত আমরা স্মৃতিস্তম্ভটাকে সম্মান করে এই রক্ত ও জীবনদানকে মূল্যায়ন করতে পারতাম। এটা তো আমাদের অর্জন আর তার প্রতীক। কতটুকু বাস্তবায়িত হলো তা পরে আলোচনা করা যেতে পারে। আর একটা জুলাই জন্ম নিক তা কখনো চাই না। কিন্তু আমরা সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়েছি।’
অবশ্য এই উদাসীনতা ও সুরক্ষার অভাব নিয়ে যশোরের গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং যশোর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কেউই সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সে সময় ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, আমরা আমাদের নির্মাণকাজ শেষ করেছি। শুধু আলোর সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি, আলোকসজ্জার কাজটি বাকি রয়েছে। আর পৌরসভা ওটার সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করবে।’
অন্যদিকে যশোর পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক রফিকুল হাসান জানান, ‘আমরা সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করব। এতদিন নানা কারণে করা সম্ভব হয়নি, তবে এ মাসেই কাজ শুরু হবে।’