পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখায় অনুষ্ঠিত হয় গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব। ছবি: ধ্রুব নিউজ
আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী সব মৌসুমি ফলের সাথে পরিচিত হতে এবং এগুলোর পুষ্টিগুণ জানতে যশোর ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) স্কুল প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ফল মেলা ও পরিচিতি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
পুরো স্কুল যেন রূপ নিয়েছিল এক ফলের রাজ্যে। স্কুলের কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে মোট ১৪টি আকর্ষণীয় স্টল প্রদর্শন করা হয়। স্টলগুলোতে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, জামরুল, পেঁপে, তালের শাঁস, কামরাঙা ও বিলুপ্তপ্রায় মেওয়াসহ প্রায় ৪৫ ধরনের বৈচিত্র্যময় মৌসুমি ফল স্থান পায়। মেলাটি শুধু স্কুলের ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্যই নয়, বরং স্থানীয় দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতেও মুখরিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সংগৃহীত এসব ফলের নাম, ইংরেজি প্রতিশব্দ, পুষ্টিগুণ এবং মানবদেহে এর উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। সেই সাথে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মনভরে মৌসুমি ফল আপ্যায়ন করা হয়।
ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোর শাখার অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সারাফাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানভীর আহমাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তানভীর আহমাদ বলেন, জীবনে সফল ও প্রথম হতে গেলে সবার আগে সুস্থ থাকা প্রয়োজন। আর সুস্থতার জন্য পরিমিত আহারের কোনো বিকল্প নেই, যা পবিত্র কোরআনেও নির্দেশ করা হয়েছে। তিনি সবাইকে ক্লাসে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে প্রত্যেকের সাথে পানির বোতল রাখার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম অনেক ফলই চেনে না। ফল হচ্ছে জান্নাতি খাবার, যার বিবরণ পবিত্র কোরআনে বারবার এসেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনেক বেশি সাহসী ও কর্মঠ হতে হবে। ২০২৪ সালে এক স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীকে পরাজিত করে তারা প্রমাণ করেছে যে তারা বাতাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে আগামীকাল কেয়ামত হবে, তবুও আজ একটি গাছের চারা রোপণ করা উচিত। গ্রিনহাউস ইফেক্ট থেকে দেশকে বাঁচাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় গাছ লাগাতে হবে।
স্কুলের চেয়ারম্যান আবু ফয়সাল স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো সোনামণিদের মৌসুমি ফলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতন করা। আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি মৌসুমি ফলই শরীরের জন্য একেকটি নেয়ামত। তিনি উৎসবটি সফল করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সারাফাত হোসেন সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের এই ফল সংগ্রহ ও মেধা-স্মৃতিশক্তি বিকাশের প্রয়াস অনুষ্ঠানটিকে সত্যিকার অর্থে সার্থক করে তুলেছে। অতিথিরাও আজ এই আয়োজনে অনেক আনন্দিত।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোর শাখার নির্বাহী সচিব গাউসুল আজম, পরিচালক মোস্তফা কামাল এবং রেজওয়ান হোসেন। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন স্কুলের সাংস্কৃতিক শিক্ষক আব্দুল্লাহিল মুজাহিদ। উৎসবের শেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ফলের স্টলগুলোর মধ্যে একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।