Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

অনলাইন কেনাকাটায় বহুমাত্রিক প্রতারণা, বাড়ছে ভোগান্তি

বণিকবার্তা বণিকবার্তা
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১২:৪০ পিএম
অনলাইন কেনাকাটায় বহুমাত্রিক প্রতারণা, বাড়ছে ভোগান্তি

অনলাইন কেনাকাটার বিস্তার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে প্রতারণার ধরন ও ভোক্তার ভোগান্তি। অগ্রিম দাম নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পেজ খুলে পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম-লোগো ব্যবহার, অস্বাভাবিক কম দামের অফার—সব মিলিয়ে প্রতারণার কৌশল হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক। আবার পণ্য হাতে পাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, বিজ্ঞাপনের ছবি ও বর্ণনার সঙ্গে পাঠানো পণ্যের কোনো মিল নেই। ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে লেনদেনের কারণে প্রতারকদের শনাক্ত করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হচ্ছে। অভিযোগের সংখ্যা বাড়লেও বিদ্যমান আইনি কাঠামো ও প্রতিকার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তারা দ্রুত ও কার্যকর সমাধান পাচ্ছেন না।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির কাছে জমা পড়া মোট অভিযোগের প্রায় ৮০ শতাংশই অনলাইন কেনাকাটাসংক্রান্ত। বিশেষ করে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে নকল পেজ খোলা হচ্ছে। এসব পেজে বাজারদরের তুলনায় কম দামে গ্যাজেট, পোশাকসহ নানা পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হয়। পরে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে অগ্রিম মূল্য বা ডেলিভারি চার্জ নেয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাকে ব্লক করে দেয়া হয় কিংবা পেজ বন্ধ করে দেয়া হয়।

রাজধানীর শ্যামলীর বাসিন্দা আল হাসান সিকদার জানান, বিজ্ঞাপনের ছবি ও বর্ণনার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের মিল না থাকার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। সম্প্রতি তিনি ৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি শার্ট কিনেছিলেন। বিজ্ঞাপনে ভালো মানের পণ্যের কথা বলা হলেও হাতে পান নিম্নমানের শার্ট। পণ্য ফেরত বা পরিবর্তনের সুযোগের কথা বলা হলেও পরে বিক্রেতার কাছ থেকে কোনো সাড়া পাননি তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দামের অফার দেখলে সতর্ক হওয়া উচিত। পেজের পুরনো কার্যক্রম, ক্রেতাদের মন্তব্য, যোগাযোগের তথ্য ও প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা যাচাই না করে অগ্রিম অর্থ পাঠানো ঠিক নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আসিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সমস্যার মূল জায়গা হলো টাকা ও পণ্যের হাতবদল একসঙ্গে হচ্ছে না। ক্রেতা আগে টাকা দিচ্ছেন, অথচ মাঝখানে সেই অর্থ ধরে রাখার কোনো তৃতীয় পক্ষ নেই। এর কারিগরি সমাধান হলো এস্ক্রো। বর্তমানে প্রতারণার বড় অংশ ঘটছে ফেসবুক পেজ ও গ্রুপকেন্দ্রিক সোশ্যাল কমার্সে, যেখানে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে সেন্ড মানির মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। এসব লেনদেন নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর বাইরে থেকে যাচ্ছে।’

ব্যবসায়িক লেনদেনে ব্যক্তিগত এমএফএস অ্যাকাউন্টের বদলে যাচাইকৃত মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করা উচিত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘এতে বিক্রেতার পরিচয় শনাক্ত করা সহজ হবে। অল্প পরিমাণ টাকা প্রতারণার জন্য কেউ আদালতে যাবেন না। কেননা দেখা যাবে মামলার খরচ ও সময় ক্ষতির চেয়ে বেশি। তাই সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক অভিযোগ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিকার পাওয়া যায়।’

অনলাইন কেনাকাটাকে ঘিরে আরো কিছু নতুন ধরনের প্রতারণাও দেখা যাচ্ছে। পণ্য ডেলিভারির সমস্যার কথা বলে কুরিয়ার বা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া এসএমএস পাঠিয়ে লিংকে ক্লিক করতে বলা হচ্ছে। এসব লিংক অনেক সময় আসল প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি ফিশিং সাইটে নিয়ে যায়, যেখানে কার্ডের তথ্য, পাসওয়ার্ড কিংবা ওটিপি হাতিয়ে নেয়া হয়। কোথাও আবার পার্সেল গ্রহণ বা ফেরতের নামে কিউআর কোড স্ক্যান করতে দিয়ে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণায় ক্রেতার টাকা হারানোর পাশাপাশি অনলাইন অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত তথ্যও ঝুঁকিতে পড়ছে।

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান সাইবার ৭১-এর পরিচালক আব্দুল্লাহ আল জাবের বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অনলাইন প্রতারণা বাড়লেও ভুক্তভোগীরা যথাযথ প্রতিকার পাচ্ছেন না। এ ধরনের অপরাধ মোকাবেলায় বিশেষায়িত সাইবার থানা গঠন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।’ অনলাইন ব্যবসার পরিচয় যাচাই ও নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত, লেনদেন স্থগিত ও অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে প্রতারণার হার কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে ভুয়া রিভিউ ও রেটিংও ব্যবহার করছে প্রতারকরা। অনেক পেজে পণ্য নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য দেখানো হয়, যেগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি বা অর্থের বিনিময়ে সংগ্রহ করা। এসব রিভিউ দেখে পণ্যের মান ও বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে ভুল ধারণা নিয়ে অর্ডার করছেন ক্রেতারা। নামি ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠানের আদলে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করেও প্রতারণা করা হচ্ছে। দেখতে অনেকটা আসল সাইটের মতো হওয়ায় সাধারণ ক্রেতার পক্ষে পার্থক্য করা কঠিন। আবার বিজ্ঞাপনে অস্বাভাবিক কম দাম দেখিয়ে আকৃষ্ট করার পর অর্ডারের শেষ ধাপে ডেলিভারি, সার্ভিসসহ বিভিন্ন চার্জ যোগ করে পণ্যের প্রকৃত মূল্য বাড়িয়ে দেয়া হয়।

ভোক্তাদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০০৯ সালের যে আইনের ভিত্তিতে অধিদপ্তর কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেখানে ই-কমার্সের বিষয়ে কোনো ক্ষমতা দেয়া হয়নি। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ প্রতিকার দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইন সংশোধনের বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ নিয়ে আলোচনা হবে। আইন সংশোধন হলে কাজ করতে আর কোনো বাধা থাকবে না।’ দীর্ঘদিনের পুরনো অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, নতুন আইনের আওতায় সেগুলোরও সমাধান করা সম্ভব হবে।
 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)