কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
গৌরীনাথপুর বাজারে স্থানীয় ড্রাগন চাষি, ফল আড়তদার ও কর্মচারীদের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন হয় ছবি: ধ্রুব নিউজ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুরে ড্রাগন চাষিদের সুবিধার্থে গড়ে ওঠা ফল বেচাকেনার কেন্দ্রটি সরকারিভাবে নিবন্ধনের (রেজিস্ট্রেশন) দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উঠতি বাজারটি নিয়ে চলা নানা অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে গৌরীনাথপুর বাজারে স্থানীয় ড্রাগন চাষি, ফল আড়তদার ও কর্মচারীদের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধনে এই দাবি তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ হয়। চাষিরা তাদের কষ্টার্জিত ড্রাগন ফল এক জায়গায় একত্রিত হয়ে যেন সহজেই পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে গৌরীনাথপুরে এই ফল বিক্রির কেন্দ্র বা বাজারটি গড়ে ওঠে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ফলচাষি ও ব্যাপারিদের কেনাবেচায় বাজারটি বেশ জমে উঠেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ ফল বেচাকেনা হলেও সরকারি নিবন্ধন না থাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চাষিদের নিরাপত্তা ও স্থায়ী বাজার ব্যবস্থাপনায় নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় বাজারটির স্থায়িত্ব ও চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষায় অবিলম্বে একে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা। মানববন্ধনে আড়তদার ও চাষিদের পাশাপাশি বিভিন্ন ফেস্টুন ও ব্যানার হাতে শত শত কৃষক অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাজারের সভাপতি সোহাগ খান, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মাস্টার ও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মশিয়ার রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ড্রাগন চাষিরা যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য ছাড়াই তাদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য পান, সেজন্যই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বাজারটি গড়ে তোলা হয়েছিল। অথচ একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী বাজার ও ড্রাগন চাষিদের উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বক্তারা আরও সতর্ক করে বলেন, হাজার হাজার কৃষকের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এই বাজারের ওপর নির্ভর করছে। সরকারি নিবন্ধন পেলে এটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ফল উৎপাদন ও বিপণন কেন্দ্রে পরিণত হবে। তাই অবিলম্বে অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাজারটিকে সরকারি রাজস্ব ও নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়।