❒ বেনাপোল কাস্টমস-এ ৩ কোটি টাকার পণ্য জব্দ
বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণা ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গত দুই মাসে বিভিন্ন পণ্যচালানে অনিয়ম ধরা পড়ে প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপের কারণেই অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত ফল, মাছ, মোটর পার্টস, শাড়ি, প্রসাধনী ও কেমিক্যালসহ নানা পণ্য আটক করা হয়েছে। বেনাপোল কাস্টম হাউসে যোগদানের পর যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল রাজস্ব আদায়ে কঠোরতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
তবে রাজস্ব ফাঁকি রোধে এই কঠোর অবস্থানের কারণে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাকে বদলির জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির চলছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
এ বিষয়ে বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, “সাইদ আহমেদ রুবেল একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়।” তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত ন্যূনতম ওজনের চেয়েও বেশি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষণ চালানো হচ্ছে। ফলে প্রতিটি ট্রাকে অতিরিক্ত এক থেকে দেড় টন পণ্যের ওপর শুল্ক আদায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
এ ছাড়া ASYCUDA World System-এর ‘জি ট্রাক মুভমেন্ট’ সাব-মডিউল চালুর ফলে বিনা এন্ট্রিতে ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। মেনিফেস্টে উল্লেখিত ট্রাক ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারছে না, যা রাজস্ব ফাঁকি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে আঙ্গুর, মোটরযানের যন্ত্রাংশ, সাগরের মাছ, কাপড়, কেমিক্যালসহ নানা পণ্যে ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব ও জরিমানাসহ মোট ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া অনিয়মের অভিযোগে তিনটি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবেও বাণিজ্য গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৬৮ হাজার ৮৬টি ট্রাকে মোট ১২ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি ১১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন এবং রপ্তানি প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, “ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকি রোধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। বৈধ ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, তবে অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই"।