নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’র আঞ্চলিক নেতা মুন্নার নাম ভাঙিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও চাঁদাবাজির মাশুল দিতে হয়েছে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে। কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, বরং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। মণিরামপুরের চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে যশোর ডিবি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে অভয়নগর থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সরাসরি শ্যুটার ও পরিকল্পনাকারী দুই সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে রোমহর্ষক সব তথ্য। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহমুদ হাসান হৃদয় ও মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে শামীম হোসাইন।

এই হত্যাকাণ্ডের সরাসরি শ্যুটার ও পরিকল্পনাকারী বৃহস্পতিবার রাতে অভয়নগর থেকে আটক হয়
-ধ্রুব নিউজ
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, ৫ জানুয়ারি ছিল সেই অভিশপ্ত সন্ধ্যা। রানা প্রতাপের গতিবিধি নজরদারি করতে আগে থেকেই কপালিয়া বাজারে পাঠানো হয় শামীম ও সেলিমকে। তারা সংকেত দিতেই পালসার মোটরসাইকেলে করে ‘ডেথ স্কোয়াড’ নিয়ে হাজির হন হৃদয়, রাজিব ও সূর্য।
কপালিয়া বাজারের ঝুমুর বিউটি পার্লারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রানা প্রতাপ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি চালায় শ্যুটাররা। মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে রানা লুটিয়ে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত করতে পৈশাচিক কায়দায় চাকু দিয়ে তার গলা কেটে দিয়ে বীরদর্পে পালিয়ে যায় ঘাতকরা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী ছিলেন আসলে ‘বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি’র আঞ্চলিক নেতা। কিন্তু এলাকা দখলে রাখতে তিনি নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বী দল ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’র সদস্য পরিচয় দিতেন। এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তিনি জমি দখল, ঘের দখল ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। বিষয়টি নজরে আসে পূর্ব বাংলার আঞ্চলিক নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার। বারবার সতর্ক করার পরও রানা প্রতাপ পিছু না হটায় মুন্না তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজিব মোল্লাকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে নাটকীয় মোড় আসে। রাজিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ একে একে সাদ্দাম হোসেন, হৃদয় ও শামীমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তারা সবাই এখন পুলিশের জালে থাকলেও ‘মিশন’ এর অন্যতম সদস্য সূর্য এখনও পলাতক।
যশোর ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, এটি স্রেফ দুটি নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শিক ও আর্থিক সংঘাত। এই রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে মণিরামপুরে চরমপন্থীদের বড় একটি নেটওয়ার্ক দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।