নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: প্রতীকী
যশোরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার (পর্নোগ্রাফি) মামলায় নূর আলম প্রকাশ বাবু নামে এক যুবককে অভিযুক্ত করে আদালতে পৃথক দুটি চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে প্রাথমিক সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অভিযুক্তের বাবা, ভাই ও বোনকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মামুনুর রশিদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন।
অভিযুক্ত নূর আলম প্রকাশ বাবু নোয়াখালী জেলার বালিয়া ধর গ্রামের হাটখোলা এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে। মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকের মাধ্যমে যশোর সদর উপজেলার এক নারীর সাথে নূর আলমের পরিচয় হয়। দীর্ঘদিনের আলাপচারিতার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত বাবু ওই নারীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ সময় অত্যন্ত সুকৌশলে ওই নারীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই তাদের বিশেষ কিছু স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ও ছবিগুলো নিজের মোবাইলে সরিয়ে নেন এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দেড় লাখ টাকা অথবা পুনরায় শারীরিক সম্পর্কের দাবি জানান।
ভুক্তভোগী নারী এই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়, অভিযুক্ত বাবু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে ওই নারীর সামাজিক সম্মানহানি করেন।
এ ঘটনায় চরম হেনস্থার শিকার হয়ে ওই নারী গত ৩১ ডিসেম্বর কোতোয়ালি থানায় নূর আলম বাবুসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন পরিদর্শক মামুনুর রশিদ।
তদন্তকালে জব্দকৃত ছবি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাই এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকায় নূর আলম প্রকাশ বাবুকে অভিযুক্ত করে আলাদা চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়। তবে তদন্তে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় মামলার অপর তিন আসামি—বাবুর পিতা আবুল খায়ের, বোন নার্গিস আক্তার প্রকাশ ডলি এবং ভাই নূর ইসলাম রবিনকে মামলা থেকে অব্যাহতির (ফাইনাল রিপোর্ট) আবেদন জানানো হয়েছে।