Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ে রাজুর সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণ, কুমিল্লায় ফিরে সুমনের হাতে খুন তাজমিন

ধ্রুব নিউজ ডেস্ক ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ১১ অক্টোবর,২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ে রাজুর সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণ, কুমিল্লায় ফিরে সুমনের হাতে খুন তাজমিন

৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘রাজুর স্ত্রী তানজু আক্তার’ পরিচয়ে হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন তাজমিন ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য উন্মোচন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয় থেকে কক্সবাজার ভ্রমণ, ভুয়া পরিচয়ে হোটেলবাস এবং শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশাচালকের নৃশংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারানোর এক রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

​তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর মায়ের সঙ্গে একটি বিষয় নিয়ে সামান্য কথা-কাটাকাটি ও অভিমান করে বাসা ছেড়েছিলেন কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকার বাসিন্দা তাজমিন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর বাসায় আশ্রয় নেন তিনি। সেখান থেকে মুঠোফোনে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে পরিচয় হওয়া ‘রাজু’ নামের এক যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাজুর আমন্ত্রণে ও পাঠানো টাকায় তিনি কক্সবাজারে পাড়ি জমান।

​কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার কুটুমবাড়ি সংলগ্ন একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘রাজুর স্ত্রী তানজু আক্তার’ পরিচয়ে হোটেলটির ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন তাজমিন। হোটেল রেজিস্ট্রারে তার বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হলেও আসল পরিচয় গোপন রাখা হয়। সেখানে রাজু নিজেকে বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে পরিচয় দেন। কক্সবাজারে এক রাত অবস্থানের পর পরদিন (৭ অক্টোবর) দুপুরে ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন তাজমিন।

​এদিকে রাজুর সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি হোটেলে চাকরি করছেন রাজু। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় ১৭ দিন থেকে পাঁচ মাস—এমন সময়ে সামাজিক মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে তার পরিচয় গড়ে ওঠে। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজু নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করছেন এবং বর্তমানে ছুটি নিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন।

​পুলিশ ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নেমে রেসকোর্স এলাকার বাসার উদ্দেশে মো. সুমন মিয়া (৩৫) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকের গাড়ি ভাড়া করেন তাজমিন। পথিমধ্যে রেসকোর্সে পৌঁছে না দিয়ে সুকৌশলে তাকে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান চালক সুমন। সেখানে তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

​পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে স্থানীয় একটি ধানখেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঘাতক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

​তাজমিনের পারিবারিক সূত্র জানায়, নিখোঁজ থাকা অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হলেও তাজমিন সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। শুধু বান্ধবীর বাসায় আছেন বলে জানান। গৃহশিক্ষক সাদ বিন এরশাদ জানান, তাজমিন কিছুটা চঞ্চল স্বভাবের হলেও মা অসুস্থ থাকলে ছোট দুই ভাইয়ের যত্ন নিতেন; কিন্তু অভিমান করে মাঝে মাঝে একা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা ছিল তার।

​লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিহতের ফোন কলের তথ্যসহ অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সার্বিক তদন্ত শেষে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের আরও বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)