নিজস্ব প্রতিবেদক
কারখানা মালিক ইলিয়াস হোসেনকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় ছবি: ধ্রুব নিউজ
বাজাজ, হিরো, টিভিএস কিংবা ইন্ডোম্যাক্স—বাজারের নামি-দামি ব্র্যান্ডের লোগো সাঁটানো বোতলে বিক্রি হওয়া মবিল কি সত্যি আসল? যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশের এক জালিয়াতির ঘটনায় এই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে। এলপিজি ফিলিং স্টেশনের আড়ালে কোনো কারখানায় নয়, যশোরেরই এক অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠানে গোপনে তৈরি হচ্ছিল এসব নামি-দামি ব্র্যান্ডের নকল ও নিম্নমানের মবিল।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে মেসার্স সিদ্দিক বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের সংলগ্ন মেসার্স রিজিয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সনের পেছনে ‘নিসা অটোমোবাইলস’-এ অভিযান চালিয়ে এই জালিয়াতির তথ্য উন্মোচন করে র্যাব।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত নামি-দামি ব্র্যান্ডের বোতল, প্যাকেজিং সামগ্রী, রাসায়নিক দ্রব্য, জেল ও নকল মবিল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইলিয়াস হোসেনকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে নিসা অটোমোবাইলসের ভেতর থেকেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল মবিল তৈরির কারবার ধরা পড়ে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র্যাবের কর্মকর্তা মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এখানেই নামি-দামি ব্র্যান্ডের নামে মবিল তৈরির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাজাজ, হিরো, টিভিএস, ইন্ডোম্যাক্স, মিন্ডাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির লেবেল ব্যবহার করে নিম্নমানের মবিল বাজারজাতের প্রস্তুতি চলছিল। উদ্ধার হওয়া মবিলের অধিকাংশই নকল।” তিনি আরও জানান, এই অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকৃত আলামত যাচাই-বাছাই চলছে।
যশোরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ উদ্দিন জানান, নিসা অটোমোবাইলসে নামি ব্র্যান্ডের নকল মবিল তৈরির অবৈধ কার্যক্রম প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইলিয়াস হোসেনকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপাদান মিশিয়ে নামি ব্র্যান্ডের বোতলে ভরা এসব নকল মবিল ইঞ্জিনের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও ট্রাকের মতো যানবাহনে এ ধরনের নকল মবিল ব্যবহারে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা দ্রুত কমে যায় এবং ভেতরের যন্ত্রাংশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
যশোরেই নামি ব্র্যান্ডের ভেজাল মবিল তৈরির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং কতদিন ধরে যশোরে এই জালিয়াতি চলছিল, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।