নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
মায়ের গলায় ফাঁস, ওড়নায় বাঁধা হাত, সন্তানের হাত-পা বাঁধা
একই খাটে ছয় বছরের অবুঝ শিশুর হাত-পা বাঁধা লাশ, আর পাশেই মায়ের গলায় প্যাঁচানো ওড়নার দুই প্রান্ত শক্ত করে বাঁধা তারই দুই হাতে। যশোরের বাঘারপাড়ায় নিজ ঘরের বন্ধ দরজা খুলে মা-ছেলের এমন বীভৎস ও রহস্যজনক নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এটি কি কোনো চরম মানসিক যন্ত্রণা থেকে ঘটা মর্মান্তিক আত্মহত্যা, নাকি কোনো শত্রুর ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত জোড়া খুন?
শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশ গিয়ে খাট থেকে প্রবাসী জাকির হোসেনের স্ত্রী জুবায়দা খাতুন (৩২) ও তাদের সন্তান জিসানের (৬) লাশ উদ্ধার করে।
ঘরের ভেতরের চিত্র দেখে সাধারণ আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ স্থানীয় ও তদন্তকারীরা। লাশের সুরতহালে দেখা যায়, ছয় বছরের শিশু জিসানের দুটি হাত ও দুটি পা গামছা দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল। অন্যদিকে জুবায়দার গলায় পেঁচানো ওড়নার দুই প্রান্ত ছড়ানো ছিল না, বরং তা শক্ত করে বাঁধা ছিল তারই দুই হাতের মুঠোয়। একই সঙ্গে শিশুর হাত-পা বাঁধা এবং মায়ের নিজ হাতেই ওড়নার প্রান্ত প্যাঁচানো থাকার ঘটনাটি পুরো তদন্তকে এক জটিল ধাঁধার মুখে ফেলে দিয়েছে।
ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী সন্দেহ। জুবায়দার ছোট বোন পিনজিয়ার সরাসরি অভিযোগ, প্রবাসফেরত জাকির হোসেনের সঙ্গে তার নিজের ভাই শিহাবের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে তীব্র বিরোধ চলছিল। ওই শত্রুতার জের ধরেই এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। অন্যদিকে এক প্রতিবেশীর দাবি, পরিবারটির সঙ্গে প্রকাশ্য কোনো শত্রুতা ছিল না। হতে পারে কোনো চরম হতাশা থেকে জুবায়দা প্রথমে নিজের অবুঝ সন্তানকে হত্যা করেন এবং পরে নিজে আত্মহননের পথ বেছে নেন।
বাঘারপাড়া থানার সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) পলাশ জানান, ঘটনাস্থলের আলামত ও লাশের ধরন কোনো সাধারণ আত্মহত্যার লক্ষণ প্রকাশ করে না। প্রাথমিক তদন্তের পর বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। মা-ছেলের এই রহস্যজনক মৃত্যুর মূল জট খুলতে লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে এটি জোড়া খুন নাকি নির্মম আত্মহনন।