Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

৩০০ কোট, ৫০০ টাই ও রোলেক্স ঘড়ি: সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে রাজকীয় কারবার!

❒ মালামাল হিসেব করতে লাগবে আরো একদিন

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জুলাই,২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
৩০০ কোট, ৫০০ টাই ও রোলেক্স ঘড়ি: সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে রাজকীয় কারবার!

ছবি: সংগৃহীত

 প্রথমদিনে মিলেছে তিন শতাধিক কোট, পাঁচশতাধিক টাই, আটটি ঘড়ির বক্স, যার মধ্যে চারটি রোলেক্স ব্র্যান্ডের, তিন সেট মুক্তার (পার্ল) অলঙ্কার, চারটি ঝাড়বাতি, একাধিক খাট ও সোফা এবং ১০০টির বেশি কামিজ 

ঢাকার গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুই ফ্ল্যাট ক্রোকের অংশ হিসেবে মালামালের তালিকা তৈরির যে কাজ চলছে, তাতে শত শত কোট ও টাইয়ের তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিজাত ঘড়ি ব্র্যান্ড রোলেক্সের চারটি বক্সসহ বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আদালতের অনুমতি নিয়ে রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দুদকের একটি দল ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করে মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে। দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ কাজ শেষ করতে আরও একদিন লাগতে পারে।

প্রাথমিক হিসাবে প্রথমদিন তিন শতাধিক কোট, পাঁচশতাধিক টাই, আটটি ঘড়ির বক্স, যার মধ্যে চারটি রোলেক্স ব্র্যান্ডের, তিন সেট মুক্তার (পার্ল) অলঙ্কার, চারটি ঝাড়বাতি, একাধিক খাট ও সোফা এবং ১০০টির বেশি কামিজ মিলেছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালতের অনুমতি নিয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটিতে মালামালের ইনভেন্টরি করছে।”

ফ্ল্যাট দুটির অবস্থান গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে। এর মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট; আর বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট। দুটি ফ্ল্যাটের মোট আয়তন ৭ হাজার ৫৭৯ বর্গফুট।

ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের আদেশে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ফ্ল্যাট দুটির রিসিভারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার দায়িত্ব সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।

তবে ফ্ল্যাট দুটি তালাবদ্ধ থাকায় রিসিভার সেখানে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। পরে দুদকের আবেদনের পর গত ২৯ এপ্রিল আদালত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুপস্থিতিতেও বাধাহীনভাবে ফ্ল্যাটে প্রবেশ এবং ভেতরে থাকা মালামালের তালিকা করার অনুমতি দেয়।

সাইফুজ্জামান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদকের একটি যৌথ দল।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের আবেদনে সাইফুজ্জামানের যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেয় আদালত। দুদকের হিসাবে, এসব সম্পদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুটি কোম্পানিতে তার বিনিয়োগের মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।

পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। দুদকের আবেদনে এসব সম্পদের মূল্য ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ পাউন্ড দেখানো হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে তার ৩৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং ২৩টি কোম্পানির শেয়ার জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। একই অনুসন্ধানের বিভিন্ন পর্যায়ে তার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও ব্যাংক হিসাব ও বিও হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়।

এদিকে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ২৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা এক মামলায় চলতি বছরের মার্চে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় চট্টগ্রামের একটি আদালত। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

দুদকের বিভিন্ন আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সাইফুজ্জামান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

সাইফুজ্জামান এর আগে বিদেশে তার সম্পদ নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, বৈধ ব্যবসার আয় দিয়েই তিনি সম্পদ কিনেছেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)