নিজস্ব প্রতিবেদক
ডাকাতদের ফেলে যাওয়া পিকআাপ, ভাংচুরকৃত অ্যাম্বুলেন্স ছবি: ধ্রুব নিউজ
বৃহস্পতিবার, রাত আড়াইটা। চারদিক নিঝুম, থমথমে। ঠিক তখনই যশোর সদর উপজেলার বীর নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ভাঙল সেই নৈশব্দ্য। শুরু হলো সাইরেন আর চিৎকারের এক টানটান উত্তেজনা। জনতা ও পুলিশের যৌথ ধাওয়ার মুখে টিকতে না পেরে শেষমেশ একটি পিকআপ গাড়ি ফেলে রেখে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল একদল ডাকাত। তবে পালিয়ে যাওয়ার শেষ মুহূর্তেও তাদের তাণ্ডব থেকে রেহাই পায়নি একটি অ্যাম্বুলেন্স। ভাঙচুরে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতের এই নাটকীয় ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে একটি সন্দেহজনক পিকআপ গাড়ি বীর নারায়ণপুর এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে এলাকাবাসীর মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাত ১২টার পর পাশের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামে গরু চুরির উদ্দেশ্যে ওই গাড়িটি প্রবেশ করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র একই ধরনের পিকআপ ব্যবহার করে এলাকায় গরু চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল—এমন অভিযোগ আগে থেকেই ছিল।
চোর ও ডাকাত চক্রের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয়রা আর দেরি করেননি। যে যার মতো লাঠিসোঁটা নিয়ে দ্রুত সংগঠিত হয়ে ধাওয়া দেন। অবস্থা বেগতিক দেখে পিকআপে থাকা ব্যক্তিরা দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা করে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে চারদিক থেকে ঘেরাও হয়ে যাচ্ছে দেখে ডাকাত দলের সদস্যরা পিকআপটি সড়কের পাশে আছড়ে ফেলে রেখে অন্ধকারের সুযোগে মাঠের দিকে উধাও হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা পেছনে ধাবমান একটি অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটির সামনের অংশসহ বিভিন্ন দিক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চালক আহত হন।
ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাম্বুলেন্স চালক কামাল হোসেন সেই রাতের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে জানান, আমি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ধাওয়া করলে তারা একাধিকবার আমার গাড়িকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ ব্রেক কষে আমার গাড়ির সামনে চলে আসে, এতে বড় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। সর্বশেষ তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে চম্পট দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি এলাকায় গরু ও ছাগল চুরির সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামে গরু চুরির চেষ্টার তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অ্যাকশনে যায়। পরে বীর নারায়ণপুর এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় পিকআপটি জব্দ করা সম্ভব হলেও সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফুলবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক নজরুল ইসলাম জানান, যৌথ অভিযানের মাধ্যমে পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। এই চক্রটি সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির সূত্রপাত যেহেতু বাঘারপাড়া উপজেলা থেকে, তাই আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের বিষয়টি বাঘারপাড়া থানার দায়িত্বে চলে গেছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সব ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই পুরো চক্রকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।