নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
রঙিন মোড়ক আর জিভে জল আনা স্বাদের আড়ালে শিশুদের হাতে বিষ তুলে দিচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। যশোরের শার্শায় মেয়াদোত্তীর্ণ, উৎপাদনের তারিখবিহীন এবং শিল্পকারখানার বিষাক্ত রং মেশানো শিশু খাদ্য বিক্রির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (০৭ মে) ‘বিসমিল্লাহ স্টোর’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে বেরিয়ে আসে এই চক্রের ভেতরের চিত্র।
তদন্তে দেখা গেছে, এসব শিশু খাদ্যের কোনোটিই বৈধ কারখানায় তৈরি নয়; বরং একটি পরিচয়হীন ও অন্ধকার আস্তানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছিল। সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, শিশুদের আকর্ষণ করতে এসব খাবারে যে উজ্জ্বল রং ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোনো খাদ্যপণ্য নয়, বরং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিষাক্ত রঞ্জক পদার্থ। কোনো মোড়কেই উৎপাদনের তারিখ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার তথ্যের চিহ্ন ছিল না।
অভিযান ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, এই ধরনের ভেজাল খাদ্য শিশুদের শরীরে নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করে। এটি কেবল তাৎক্ষণিক পেটের অসুখ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের লিভার ও কিডনি বিকল করে দেওয়ার মতো অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনছে। জনস্বাস্থ্যের এই চরম ঝুঁকির বিপরীতে শাস্তির উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিল্লাল হোসেন-কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
যশোর জেলা পুলিশ ও শার্শা থানা পুলিশ-এর সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানটি কেবল একটি দোকান বন্ধ করা নয়, বরং অসাধু চক্রের প্রতি একটি কড়া বার্তাও। শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই ধরনের মরণঘাতী ভেজাল বাণিজ্যের শেকড় উৎপাটনে প্রশাসনের এমন আপসহীন অবস্থান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।