রমজান আলী, বেনপোল
চোরাই বাইকসহ আটক দুই গ্যারেজ মিস্ত্রি ছবি: ধ্রুব নিউজ
রাত তখন প্রায় ১১টা। চারপাশ নিঝুম। শার্শার যাদবপুর গ্রামের নাভারণ-সাতক্ষীরা মোড়ে রাবেয়া সুপার মার্কেটের নিচতলায় ‘শফি মটরস ওয়ার্কস’ নামের গ্যারেজটিতে তখনও টিমটিমে আলো জ্বলছে। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কী চলছে। কিন্তু শার্শা থানা পুলিশের কাছে ছিল নিঁখুত খবর।
গত সোমবার (৩ মার্চ) রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে এসআই শেখ আল-আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অতর্কিতে হানা দেয় সেই গ্যারেজে। গ্যারেজের ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় এক রোমাঞ্চকর দৃশ্য—দুই যুবক খুব দ্রুত হাতে একটি নীল রঙের দামী ‘ইয়ামাহা এফজেডএস’ মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ খুলছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই জানালার ওপাশে অন্ধকারের দিকে পালানোর চেষ্টা করে তারা, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সক্রিয় সদস্য।
ঘটনার সবচেয়ে নাটকীয় মোড় আসে তখন, যখন খুলনার সোনাডাঙ্গা থেকে ছুটে আসেন মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক এনায়েতুল ইসলাম (৫৮)। প্রযুক্তির কারিশমায় নিজের শখের বাইকটিতে লাগানো ‘জিপিএস ট্র্যাকিং’ তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে শার্শার এই অন্ধকার গ্যারেজে। নিজের চুরি হওয়া বাইকটি অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে যেন হাতে আকাশ পেলেন এই ব্যক্তি।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ছোট ভেটখালী গ্রামের মো. মনিরুজ্জামান (৩৭) এবং যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার ধান্যখোলা গ্রামের মো. রাকিব হোসেন (১৯)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অকপটে স্বীকার করেছে, যশোর ও আশেপাশের জেলাগুলোতে মোটরসাইকেল চুরি এবং তা নিমিষেই যন্ত্রাংশ আলাদা করে বিক্রি করে দেওয়াই তাদের পেশা।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ হোসেন বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বদা তৎপর। এই চক্রের মূল হোতাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এই ঘটনায় শার্শা থানায় একটি মামলা (নং-০৬) দায়ের করা হয়েছে, যেখানে গ্রেপ্তার দুই জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আজ বিকেলে যশোরের আদালতে পাঠানো হয়েছে।