নিজস্ব প্রতিবেদক
আউটসোর্সিংয়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলাটি অবশেষে যশোর কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে। আদালতের নির্দেশে সোমবার (৩ মার্চ) মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত কাজল বিশ্বাস মণিরামপুর উপজেলার বাকোশপোল গ্রামের মৃত সন্তোষ বিশ্বাসের ছেলে এবং ‘অর্থ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর যশোর শহরের শংকরপুর ইছাহাক সড়কের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে এ সংক্রান্ত একটি নালিশি পিটিশন আদালতে দাখিল করেছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কাজল বিশ্বাস বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগ দেওয়ার কাজ করতেন। সেই পরিচয়ের সূত্রে স্কুল শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। কাজল তার ভাই, বোন ও ভাইপোসহ মোট চারজনকে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
তার প্রস্তাবে বিশ্বাস করে সাইফুল ইসলাম ২০২২ সালের ২৬ আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের ২২ জুনের মধ্যে বিভিন্ন দফায় ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা কাজলের হাতে তুলে দেন।
ভুয়া নিয়োগপত্র ও হয়রানি: টাকা নেওয়ার পর কাজল বিশ্বাস ওই চারজনের নামে নিয়োগপত্র প্রদান করেন এবং তাদের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করতে বলেন। কিন্তু তারা হাসপাতালে যোগদান করতে গেলে কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই পদগুলোতে অনেক আগেই লোক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদের দেওয়া নিয়োগপত্রগুলো বৈধ নয়।
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে সাইফুল ইসলাম কাজলের কাছে টাকা ফেরত চান। কিন্তু কাজল টাকা ফেরত না দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে পাওনা টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে কোতোয়ালি থানাকে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের আদেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতার এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।