নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সক্রিয় সদস্য পুলিশের জালে আটক। ছবি: ধ্রুকব নিউজ
যশোরের মণিরামপুরে একটি দোকানের ক্যাশ বাক্স ভেঙে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যরা। শুক্রবার ভোররাতে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন— পাইকগাছা উপজেলার বিরাশি গ্রামের মৃত আনসার গাজীর ছেলে মমিন গাজী এবং একই উপজেলার ফজলু গাজীর ছেলে রফিক গাজী। অভিযানে চুরিতে ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল এবং আত্মসাৎকৃত টাকার মধ্য থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মণিরামপুরের রোহিতা বাজারে ‘জাহিদ টেলিকম’ নামক একটি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহিদ হোসেন আছরের নামাজ আদায়ের জন্য দোকানে কলাপসিবল গেট টেনে মসজিদে যান। ক্যাশ বক্সে তখন নগদ ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিল। নামাজ শেষে ফিরে তিনি দেখেন দোকানের গেট খোলা এবং ক্যাশ বাক্সের তালা ভেঙে সব টাকা চুরি হয়ে গেছে।
ঘটনার পর চোর শনাক্তে তদন্তে নামে ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিট। তদন্তের সূত্র ধরে শুক্রবার রাত ৩টা ২০ মিনিটে পাইকগাছায় নিজ বাড়ি থেকে প্রথমে মমিন গাজীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মমিনের দেওয়া তথ্যমতে সোবহান গাজী নামে অপর এক সহযোগীর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সোবহান গাজী পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে সোবহানের ঘরের বিছানার চাদরের নিচ থেকে চুরি হওয়া ৫০ হাজার টাকা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এরপর সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে পাইকগাছার নোয়াকাটি এলাকা থেকে চক্রের অন্য সদস্য রফিক গাজীকে আটক করা হয়।
আইনি পদক্ষেপ: ডিবির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দেবব্রত ঘোষ জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মমিন গাজীর বিরুদ্ধে ৪টি এবং রফিক গাজীর বিরুদ্ধে ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। আটক মমিন গাজী চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
চক্রের পলাতক সদস্য সোবহান গাজীসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।