❒ যশোরে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ সোমবার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি।

আলোচনা সভা শেষে জেলা শিশু একাডেমির পরিচালনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় - ধ্রুব নিউজ
যশোরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রফিকুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে দুই মহান কবির অসামান্য অবদান, দর্শন ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইদ। তিনি তার বক্তব্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' এবং কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির মধ্যে গভীর বিজ্ঞান চেতনা লুকিয়ে আছে। তাঁর 'খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশুর আনমনে' গানের ভেতরে কৃষ্ণ গহ্বর বা ব্ল্যাক হোলের মতো মহাবৈজ্ঞানিক সত্য এবং 'বিশ্বজগৎ দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে' চরণের মাধ্যমে আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ফোনের প্রযুক্তির আবহ ফুটে উঠেছে। সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইদ আরও বলেন, নজরুল শুধু প্রেমের বা দ্রোহের কবি নন, তিনি একাধারে সুফিবাদ, বৈষ্ণববাদ ও শাক্ত দর্শনসহ অন্তত সাতটি দর্শনে বিশ্বাসী ও পারদর্শী ছিলেন। সমাজে যতদিন অন্যায়, অবিচার ও শোষণ থাকবে, ততদিন নজরুলের বিদ্রোহ ও বিপ্লব সমানভাবে প্রাসঙ্গিক থাকবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবিব, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ পাভেল চৌধুরী, জিয়া স্মৃতি পাঠাগার জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাক আহমেদ পলাশ, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন এবং তীর্যক যশোরের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন।
আলোচনা সভা শেষে জেলা শিশু একাডেমির পরিচালনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে স্থানীয় শিল্পীরা রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও আকর্ষণীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ২৭ জন কৃতী শিক্ষার্থীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, কবি, সাহিত্যিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।