নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ইনফোগ্রাফি এআই
যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার ও তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলাদা মামলা হয়েছে।
বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক আল-আমীন মামলা দুটি দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।
আসামি জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু ও শামীমা শারমিন যশোর শহরের পুরাতন কসবার শহীদ মশিয়ুর রহমান সড়কের বাসিন্দা।
জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং নিজে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে তিনি নিজের কোম্পানির নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ টাকা অর্জন করে নিজে ভোগদখল করছেন।
শামীমা শারমিন ও জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর বিরুদ্ধে করা আরেকটি মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর স্ত্রী শামীমা শারমিন স্থাবর ও অস্থাবর মোট ১ কোটি ৭৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৩২ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ৭১২ টাকা। ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৮ লাখ ৪২ হাজার ৪৪ টাকা। ওই সময়ে শামীমা শারমিনের ১ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ২৫৬ টাকার বৈধ আয় পাওয়া যায়। আসামি শামীমা শারমিন জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮৮ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। শেয়ার অনুপাতে শামীমা শারমিনের কোম্পানির নামের মোট সম্পদ ১৮ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৪৯৯ টাকা। কোম্পানি হতে তার মোট আয় ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭২ টাকা। শেয়ার অনুপাতে তার কোম্পানির নামে লোনের পরিমাণ ১১ কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার ২৬২ টাকা। লোন বাদে কোম্পানিতে তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৮৬ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ টাকা। কোম্পানিতে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৪০ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৫ টাকা। তিনি ব্যক্তিগত ও কোম্পানির ব্যবসায় জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। যা নিজ ভোগদখলে রেখে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং তার স্বামী আসামি জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু তাকে উক্ত অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।