নিজস্ব প্রতিবেদক
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম গাজীর গাড়িতে বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) যশোর অভয়নগর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের আমির আলী গাজীর ছেলে ও ভুক্তভোগী নেতার ভাই গাজী ইউছুফ আকাশ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল উক্ত ঘটনার বিষয়ে পূর্বে কোতোয়ালি থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না—তা বিস্তারিত প্রতিবেদনসহ আদালতে জমা দেওয়ার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—ঢাকার ভাটারা থানার উত্তর নয়ানগর এলাকার হাবিবুর রহমান শেখের ছেলে ও ইলমা এন্টারপ্রাইজের মালিক ইকবাল শেখ, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার উত্তর ভিটাবাড়িয়া গ্রামের মৃত মুনসুর জমাদ্দারের ছেলে ফারুক জমাদ্দার এবং যশোর সদরের তফসীডাঙ্গা গ্রামের শফিয়ার রহমানের ছেলে রাকিব।
মামলার আরজি থেকে জানা যায়, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও যশোর সদরের বসুন্দিয়া আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হয়েছিলেন আবুল কালাম গাজী। নির্বাচনকালীন সময় থেকেই আসামিদের সঙ্গে তাঁর বিরোধের সূত্রপাত হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আবুল কালাম গাজী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আনিসুর রহমান মুন্নাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর নির্বাচনী এলাকা সফরে আসেন। ঐ দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা থেকে সাড়াত ৭টার মধ্যে কোতোয়ালি থানাধীন বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জঙ্গলবাঁধাল স্কুল-খালঘাট সড়কে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়ির গতিরোধের চেষ্টা চালায়।
এ সময় আসামিরা গাড়ি লক্ষ্য করে দুটি বোমা নিক্ষেপ করে এবং আসামি রাকিব শর্টগান দিয়ে ৩-৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে গাড়ি চলন্ত থাকায় বোমা দুটি পেছনের দিকে বিস্ফোরিত হয়, ফলে গাড়িতে থাকা যাত্রীরা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
ঘটনার পরপরই তাঁরা গাড়ি নিয়ে দ্রুত বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। সেখানে গাড়িটি পরীক্ষা করার সময় তারা পেছনের অংশে একটি সচল লোকেশন ট্র্যাকার যুক্ত দেখতে পান। অভিযোগ করা হয়, আবুল কালাম গাজীর গতিবিধি ও অবস্থান সর্বক্ষণ শনাক্ত করতেই আসামিরা কৌশলে এই ট্র্যাকার স্থাপন করেছিল, যা আসামি ইকবাল শেখের জিমেইল আইডি দিয়ে সচল (লগইন) করা ছিল। পরবর্তীতে দলীয় ফোরামে আলোচনা ও পরামর্শ শেষে আদালতের দ্বারস্থ হন নিহতের স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা।