❒ অভিযোগ ভুয়া নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির নামে অর্থ আত্মসাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান এবং এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যশোরের বি.আর.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যশোর সদর উপজেলার ডহরসিংগা গ্রামের আজাদুর রহমান প্রিন্স বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম যশোর সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ মোল্লার ছেলে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালে বি.আর.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে আজাদুর রহমান প্রিন্স সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে আবেদন করেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নিয়োগপত্রের মাধ্যমে তাঁকে যোগদান করানো হয়। নিয়োগপত্র পেয়ে ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর বিদ্যালয়ে কর্মস্থলে যোগদান করেন প্রিন্স।
২০২২ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু হলে খরচ বাবদ প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম শিক্ষক প্রিন্সের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। চাকরির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ওই বছরের ১৯ জুলাই তিনি প্রধান শিক্ষককে নগদ ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। ২০২৩ সালে বিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে এমপিওভুক্ত হলেও চূড়ান্ত তালিকায় প্রিন্সের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরবর্তীতে খোঁজখবর নিয়ে প্রিন্স জানতে পারেন, প্রধান শিক্ষক তাঁকে সম্পূর্ণ ভুয়া একটি নিয়োগপত্র দিয়ে এতদিন স্কুলে খাটানিয়েছেন।
পরবর্তীতে জালিয়াতির বিষয়টি ধরে টাকা ফেরত চাইলে প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে কেবল আশ্বাস দিলেও টাকা ফেরত দেননি। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক প্রিন্স আইনজীবীর মাধ্যমে প্রধান শিক্ষককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এরপরও টাকা পরিশোধ না করায় গত ১০ জুলাই যশোর শহরের মনিহার সিনেমা হলের পূর্ব পাশের একটি চায়ের দোকানের সামনে তাঁদের দেখা হয়। সেখানে পাওনা টাকা দাবি করলে প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম টাকা দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান এবং তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।