নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝিনাইদহের মহেশপুরের নেপা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দাখিলা বইয়ের পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার দায়ে সাবেক অফিস সহায়ক রেজাউল হক ভাস্করকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার বিশেষ দায়রা জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস এম নূরুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত ভাস্কর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি ভাস্কর নেপা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর উক্ত কার্যালয়ে ব্যবহৃত ৭৫/২০১৬-১৭ নম্বর দাখিলা বই থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে বিভিন্ন সিরিয়ালের মোট আটটি পাতা ছিঁড়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২৯ নভেম্বর অফিসিয়াল পরিদর্শনের সময় দাখিলা বই পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অফিসের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অফিস সহায়ক রেজাউল হক ভাস্কর দাখিলা বইয়ের পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে মহেশপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা আসামি ভাস্করের বাড়িতে অভিযান চালান। তখন ভাস্কর কয়েকটি দাখিলার কপি স্বেচ্ছায় হস্তান্তর করেন এবং বাকি কয়েকটি কপি ছিঁড়ে ফেলেছেন বলে জানান। এছাড়া ভাস্করের কক্ষ থেকে দুইটি ডি.সি.আর কপি, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে তৈরি জাল সিলমোহর ও টাকা উদ্ধার করা হয়। সরকারি নথিপত্র ও সম্পদ বিনষ্ট এবং আত্মসাতের অভিযোগে ভাস্করকে আসামি করে মামলা করেন নেপা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহজাহান আলী।
মামলাটির তদন্ত শেষে আসামি রেজাউল হক ভাস্করকে অভিযুক্ত করে ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ ঝিনাইদহ জেলা জজ আদালতে চার্জশিট জমা দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক রিজিয়া খাতুন। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য যশোর বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি রেজাউল হক ভাস্করের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ১৬১ ধারায় দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড; ৪৬৭ ধারায় দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪৬৮ ধারায় তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ২০৪, ৪৭১, ৪৮৫ ও ৪৮৮ ধারায় দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড; ২০১ ধারায় তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
তবে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সবকটি সাজার মেয়াদ একই সাথে চলবে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি রেজাউল হক ভাস্কর বর্তমানে জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছেন।