নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে এই সভায় বক্তারা রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সকাল ১১টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহযোগী মনির হায়দার বলেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার মধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন ছিল অন্যতম। বিভিন্ন কমিশন থেকে আসা প্রায় এক হাজার সুপারিশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৮৪টি সুপারিশ নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’। এই সনদ বাস্তবায়নের প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ হলো গণভোট। তিনি আরও যোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনমানুষের মুক্তির আন্দোলন। এই সনদ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না এবং পরবর্তী যে কোনো সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মজিদ বলেন, দেশকে চিরতরে স্বৈরাচারমুক্ত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের কোনো বিকল্প নেই। জুলাই আন্দোলনে সকল শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে রক্ত বিলিয়ে দিয়েছেন, জুলাই যোদ্ধারা যে কারণে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন পূরণে আমাদের নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে। ফ্যাসিবাদীরা এখনো বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, সেই ষড়যন্ত্র আমাদের শক্ত হাতে রুখে দিতে হবে এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কে জয়ী করার মাধ্যমে।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং ইউজিসির প্রতিনিধি মো. গোলাম মোস্তফা। সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় যখন জুলাই আন্দোলনের শহীদ আব্দুল্লাহ ও শহীদ ইমতিয়াজ আহমেদ জাবেরের পিতারা বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত জুলাই যোদ্ধা ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুনের সঞ্চালনায় এই সভায় ২২টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, শিক্ষক, জুলাই যোদ্ধা, শিক্ষার্থী প্রতিনিধিসহ যবিপ্রবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও দপ্তর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত সকলে একটি অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে ঐক্যমত পোষণ করেন।