আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
৩ নভেম্বর ২০২৬: পৃথিবীর বুকে ১৯৫টি সার্বভৌম রাষ্ট্র ছাড়াও আরও কি ঠাঁই হতে পারে একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দেশের? এই প্রশ্নকেই বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক তরুণ। ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার মধ্যবর্তী দানিউব নদীর তীরে মালিকানাহীন এক খণ্ড বিতর্কিত জমিতে ‘ফ্রি রিপাবলিক অব ভার্দিস’ নামের একটি স্বঘোষিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গড়ে তুলে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ড্যানিয়েল জ্যাকসন।
মাত্র ১২১ একর আয়তনের এই ভূখণ্ডটি ভ্যাটিকান সিটির চেয়ে সামান্য বড়। ভবিষ্যতে এটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেলে আয়তনের নিরিখে এটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ।
‘টেরা নলিয়াস’ বা দাবিহীন জমি
ইউরোপের বলকান অঞ্চলে ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘ দিন ধরে দানিউব নদীর তীরের এই জমিটি দাবিহীন বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই ধরনের ভূখণ্ডকে ‘টেরা নলিয়াস’ বলা হয়, যার ওপর কোনো দেশেরই স্বীকৃত বা আনুষ্ঠানিক দাবি থাকে না। ভূগোলপ্রেমী ড্যানিয়েল মাত্র ১৪ বছর বয়সে এই জমির সন্ধান পান। পরবর্তীকালে ২০১৯ সালের ৩০ মে তিনি এই ভূখণ্ডের পকেট-৩ অংশটিকে ‘ভার্দিসের মুক্ত প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে বন্ধু ও সমর্থকদের নিয়ে সেখানে নতুন রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেন।
লাটিন শব্দ থেকে আসা ‘ভার্দিস’ নামের অর্থ ‘সবুজ’, যা ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রতিষ্ঠাতাদের পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্নকে ফুটিয়ে তোলে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কর্মকাণ্ড
এই উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি রিসার্চ’-এর তরফে ড্যানিয়েলকে পুরস্কৃত করা হয়। গত ৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ‘যুব সংহতি’ পর্বে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় ভার্দিসের প্রতিনিধিদের। সেখানে এই স্বঘোষিত রাষ্ট্রের মানবিক সহযোগিতা বিভাগের ‘মন্ত্রী’ জেফ্রি লি তাঁদের কার্যক্রম ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রতিবন্ধকতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
একটি পৃথক রাষ্ট্র গড়ে তোলার পথ ড্যানিয়েল ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য সহজ ছিল না। বছরের পর বছর ধরে তাঁরা সরকারি কাঠামো, সংবিধানের খসড়া এবং অনলাইন কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন। এমনকি কয়েকশো মানুষকে ‘নাগরিকত্ব’ও দেওয়া হয়েছে।
তবে ভার্দিস এখনও রাষ্ট্রপুঞ্জ বা বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পায়নি। ২০২৩ সালে ক্রোয়েশীয় পুলিশ ড্যানিয়েলসহ বেশ কয়েকজন বসতি স্থাপনকারীকে আটক করে সেখান থেকে বহিষ্কার করে। এমনকি ড্যানিয়েলের ক্রোয়েশিয়ায় প্রবেশের ওপর আজীবনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বর্তমানে ক্রোয়েশিয়া ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি চালানো এবং সার্বিয়া দিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাসনেই সরকার চালাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ভার্দিসের ‘প্রেসিডেন্ট’ ড্যানিয়েল।