ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভা ছবি: সংগৃহীত
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন মজুরি কাঠামো আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে। মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই নতুন স্কেলে বেতন ও ভাতা হাতে পাবেন তৈরি পোশাক শিল্পের লাখ লাখ শ্রমিক।
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে সকালে অনুষ্ঠিত নতুন মজুরি বোর্ডের উদ্বোধনী সভায় এই সমঝোতা হয়। সভা শেষে শ্রমিক প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, আগামী ডিসেম্বর থেকেই বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়ন এবং জানুয়ারি থেকে তা প্রদানের বিষয়ে পোশাক কারখানার মালিকপক্ষ পূর্ণ সম্মতি প্রকাশ করেছে।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বিজিএমইএ-র পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন এই বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন বলে জানান বাবুল আক্তার। একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক উৎপাদন বজায় রাখতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের অবিলম্বে নিজ নিজ কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন এই শ্রমিক নেতা।
উল্লেখ্য, পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকা সহ আশুলিয়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মতো প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। মজুরি বোর্ড গঠন সত্ত্বেও সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিকদের এই অচলবস্থা কাটাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সম্প্রতি শ্রমিক নেতা এবং পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। আলোচনার ইতিবাচক ফল হিসেবে পরবর্তীতে ছয় সদস্যের এই 'নিম্নতম মজুরি বোর্ড' গঠন করা হয়।
নবগঠিত এই মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিকদের পক্ষে বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রতিনিধি আসিফ আইয়ুব এবং নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে। এই বোর্ড পোশাক খাতের সব গ্রেডের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্বিন্যাসের চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করবে, যার ওপর ভিত্তি করে সরকার নতুন মজুরি কাঠামোর আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করবে।
বাংলাদেশে প্রচলিত শ্রম আইন সংশোধন হওয়ায় মজুরি পুনর্বিন্যাসের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সংশোধিত আইনের ভিত্তিতেই নির্ধারিত সময়ের আগেই শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এবার দ্রুততম সময়ে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।