১১ নম্বরে নামা শরিফুল ইসলাম করেন দলীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান ছবি: সংগৃহীত
ম্যাচটি একাদশে ফেরার, বল হাতে মাঠে নামার আগেই ব্যাটিংয়ের এক অদ্ভুত রেকর্ড বুকে নাম লেখালেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। রেকর্ডটি ব্যক্তিগতভাবে তার জন্য কিছুটা প্রাপ্তির হলেও, দলের জন্য তা চরম বিব্রতকর।
ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে অসি বোলিং তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কদের মারাত্মক বোলিংয়ের সামনে টিকতে না পেরে সফরকারীরা গুটিয়ে যায় মাত্র ৬৪ রানে।
দলীয় বিপর্যয়ের দিনে বাংলাদেশ ব্যাটারদের চূড়ান্ত ব্যর্থতার করুণ চিত্র ফুটে ওঠে শেষ ব্যাটারের ব্যাটে। ১১ নম্বরে নামা শরিফুল ইসলাম করেন দলীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান। টেস্ট ইতিহাসে মাত্র ১৩তম বারের মতো কোনো দলের ১১ নম্বর ব্যাটার ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার নজির স্থাপন করলেন। শরিফুলের পর ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ রান আসে ৯ নম্বরে নামা তাইজুল ইসলামের ব্যাট থেকে।
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এর আগে এমন বিষাদময় রেকর্ডের ভাগীদার ছিলেন কেবল তালহা জুবায়ের। ২০০৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ ১২৪ রানে অলআউট হওয়ার দিনে শেষ ব্যাটার হিসেবে নেমে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেছিলেন তালহা।
এটি টেস্টে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এক পর্যায় তো ৩৯ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ৪৩ রানের সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জা পুনর্বার ছোঁয়ার শঙ্কায় পড়েছিল দল। তবে শেষ উইকেটে তাইজুল ও শরিফুলের ২৫ রানের লড়াই দলকে সেই চরম লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করে। এই জুটির ওপর ভর করেই ২০১৮ সালে অ্যান্টিগায় অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করা ৪৩, ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৩ এবং ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তোলা ৬২ রানের সর্বনিম্ন স্কোরকে টপকাতে পেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশি ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামানোর মূল নায়ক ছিলেন অসি স্পিডস্টার মিচেল স্টার্ক। মাত্র ২২ বলের এক বিষাক্ত স্পেলে ৫ উইকেট শিকার করেন এই বাঁহাতি পেসার। শেষ পর্যন্ত ১০ ওভারে ৬টি মেডেন সহ মাত্র ১২ রানের বিনিময়ে ৬টি উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের ইনিংস একাই ধ্বংস করে দেন তিনি।