ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার শক্ত মাটিতে লাল বলের ক্রিকেটে জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা, প্রতিপক্ষ বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং লাইনআপ। এমন কঠিন মঞ্চেই বল হাতে রূপকথার এক গল্প লিখলেন বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ। তরুণ এই ডানহাতি পেসারের তোপের মুখে পড়ে ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। হাসান একাই ধসিয়েছেন অজিদের ইনিংসে, ৫৫ রান খরচায় পকেটে পুরেছেন ক্যারিয়ার সেরা ৬টি উইকেট।
প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই স্মরণীয় পারফর্ম্যান্স ও মাঠের ভেতরের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন হাসান মাহমুদ। বিশ্বসেরা দলের বিপক্ষে লড়াইয়ের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, "অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্ত দলের বিরুদ্ধে তাদের মাটিতেই বল করাটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জের ছিল। তবে আমার প্রস্তুতি ছিল দারুণ। পাশাপাশি দলের অন্য বোলাররাও চমৎকার সাপোর্ট দিয়েছে। বিশেষ করে তাসকিন ও এবাদতের টাইট বোলিং আমাকে উইকেট তোলার পথ সহজ করে দিয়েছে।"
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারের অন্যতম মূল ভরসা ও বিধ্বংসী ব্যাটার ট্রাভিস হেডকে বেশি দূর এগোতে দেননি হাসান। ক্যাঙ্গারু মিডল অর্ডার ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ার আগেই তাকে সাজঘরে ফেরান এই টাইগার পেসার। হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়ে মাঠেই তার প্রশংসা করেন হেড নিজে। সে মুহূর্তের কথা স্মরণ করে হাসান জানান, "ট্রাভিস হেড বল খেলার ফাঁকে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল, 'দারুণ বল করছো'।"
তবে ইনিংসে শিকার করা ছটি উইকেটের মধ্যে সবচেয়ে আনন্দদায়ক ছিল আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার স্টিভ স্মিথের উইকেটটি। স্মিথকে পরাস্ত করার রহস্য উন্মোচন করে হাসান বলেন, "আমার কাছে প্রতিটি উইকেটই সমান আনন্দের, তবে স্মিথের উইকেটটি একটু বেশিই বিশেষ। ও আমার বোলিংয়ের লাইন-লেংথ ঠিকমতো পড়তে পারছিল না। আমার মনে হচ্ছিল ও রান বাড়াতে বড় কোনো শট খেলার চেষ্টা করবে। ঠিক তখনই একটি নিখুঁত বাউন্সার মারি, আর ও সেটা মিস করে উইকেটটি উপহার দেয়।"
নিজের সাফল্যের পাশাপাশি দলের বাকি পেস অলিম্পিকের প্রশংসাতেও কার্পণ্য করেননি হাসান। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের ধারাবাহিক বোলিং বোলিং লাইনআপকে চাঙ্গা রেখেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মূল ম্যাচের আগে অনুশীলন পর্বগুলো বেশ ভালো হয়েছিল, যার সুফল এখন মাঠে পাওয়া যাচ্ছে। তাসকিন ও এবাদতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই অন্য প্রান্ত থেকে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।