ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: ধ্রুব গ্রাফিক্স
মাঠের সবুজ ঘাসে বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক ইতিহাস গড়ে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সী ফুটবল জাদুকর লামিনে ইয়ামাল। তবে বার্সেলোনা ও স্প্যানিশ উইঙ্গারের জাদুকরী ছোঁয়া এবার দেখা গেল মাঠের বাইরেও। কাতালান ক্লাব ও জাতীয় দলের এই তরুণ স্তম্ভ এবার খবরের শিরোনামে এসেছেন এক রাজকীয় ও বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনে। পপ-সম্রাজ্ঞী শাকিরা এবং সাবেক বার্সা অধিনায়ক জেরার্ড পিকের স্মৃতিজড়িত বিখ্যাত বাংলোটিই এখন ইয়ামালের নতুন বসতবাড়ি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ট’-এর খবর অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ইউরো দিয়ে বার্সেলোনার অন্যতম আকর্ষণীয় এই প্রপার্টি নিজের নামে করে নিয়েছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এই ক্রয়ের মধ্য দিয়ে যেন নিজের তারকাখ্যাতি ও লাইফস্টাইলকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেলেন তিনি।
কাতালুনিয়ার সাধারণ রোকাপোন্দা এলাকা থেকে উঠে এসে ১ কোটি ইউরোর প্রাসাদে জায়গা করে নেওয়ার এই গল্পটা কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। ২০২৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক ঘটে তাঁর। এরপরের ইতিহাস সবার জানা—স্পেন জাতীয় দলের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড, ঝুলিতে তিন-তিনটি লিগ শিরোপা, ইউরো কাপ এবং বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য গৌরব। অতি অল্প সময়েই ক্লাব ও জাতীয় দল—উভয় পরিমণ্ডলেই নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।
কী আছে এই প্রাসাদে?
ইয়ামালের নতুন নিবাসটি বার্সেলোনার অভিজাত এলাকা 'এস্প্লুগেস দে ইয়োব্রেগাত'-এর ‘সিউদাদ দিয়াগোনাল’ রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে অবস্থিত। ২০১২ সালে খ্যাতিমান স্থপতি মিরিয়া আদমেতল এর নকশা করেন। ৩৮০০ বর্গমিটারের বিশাল পরিসরে গড়ে ওঠা এই প্রপার্টিতে রয়েছে ৩টি মূল তলা এবং ২টি আন্ডারগ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ তলা।
ক্রীড়াপ্রেমী ও বিনোদনপ্রিয় যেকোনো মানুষের জন্য বাড়িটি এক স্বর্গরাজ্য। ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে রয়েছে ২টি সুইমিং পুল, যার একটিতে রয়েছে কৃত্রিম জলপ্রপাত। শারীরিক কসরত ও খেলাধুলার জন্য আছে নিজস্ব জিমনেসিয়াম, প্যাডেল কোর্ট এবং একটি মিনি ফুটবল মাঠ। অন্যদিকে বিনোদনের খোরাক জোগাতে রয়েছে হোম সিনেমা হল, ওয়াইন সেলার এবং একটি হাই-টেক রেকর্ডিং স্টুডিও—যেখানে একসময় গান বাঁধতেন শাকিরা নিজে। সুবিশাল কাঁচের জানালা দিয়ে পুরো বার্সেলোনা শহর ও ভূমধ্যসাগরের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য একপলকেই নজর কাড়ে।
পুরোনো স্মৃতির সাথে নিজস্বতার স্পর্শ
ইন্টেরিয়র ডিজাইনে শাকিরার সময়ের সেই আধুনিক ও আলো-আঁধারির নান্দনিক ছোঁয়া অপরিবর্তিতই রেখেছেন ইয়ামাল তবে নিজের মতো করে যোগ করেছেন ব্যক্তিগত পছন্দ। সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে জেতা স্মারক, ট্রফি আর ব্যক্তিগত ঝুলির সব অর্জনগুলো দিয়ে সাজিয়ে তুলেছেন প্রাসাদের নানা কোণ।
সামগ্রিক প্রপার্টিটিতে মোট চারটি আলাদা বাড়ি রয়েছে—একটি পিকের মা-বাবার, একটি শাকিরার বাবা-মায়ের এবং মূল প্রাসাদটিতে এখন থেকে থাকবেন ইয়ামাল। চতুর্থ বাড়িটিতে এখনও কিছু সংস্কারকাজ বাকি রয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান হওয়ায় এখান থেকে সান্ধ্যকালীন বার্সেলোনা শহরকে দেখায় চমৎকার।
এই আইনি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লেগেছে প্রায় তিন মাস। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে গোপনীয়তা বজায় রেখে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় পিকে বা শাকিরা কাউকেই সরাসরি উপস্থিত হতে হয়নি। ১৮ বছর বয়সে চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করে অবশেষে এই ঐতিহাসিক প্রাসাদের একক মালিকানা পেলেন ইয়ামাল। বার্সেলোনার এক সময়ের সবচেয়ে চর্চিত দম্পতির স্মৃতিবিজড়িত ঘরটি এখন ফুটবল বিশ্বের এক উদীয়মান রাজার নতুন সাম্রাজ্য।