ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: গোল ডট কম
ফুটবলের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে মাঠের বাইরের পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্বের মাঝেই। আর সেই স্পোর্টসম্যানশিপের এক অনন্য ও মন ছুঁয়ে যাওয়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আর্জেন্টিনা দলের কাণ্ডারি লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রতিপক্ষ হিসেবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও, ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার প্রতি অভাবনীয় সম্মান দেখিয়েছেন তিনি। জনপ্রিয় ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম 'গোল ডটকম'-এর তথ্যমতে, বিশ্বকাপ ফাইনালের রোমাঞ্চকর লড়াই উপভোগ করার জন্য ভোজিনহার পরিবারের সদস্যদের বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মেসি। শুধু তাই নয়, কেপ ভার্দে থেকে তারা যেন কোনো রকম বাধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে পারেন, সেজন্য তাদের সম্পূর্ণ যাতায়াত খরচ থেকে শুরু করে ফাইনালের মহামূল্যবান ভিআইপি টিকিট—সবকিছুরই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
আকর্ষণীয় এই উদ্যোগের কথা ফাইনালের আগে পর্যন্ত সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের পর ভোজিনহার পরিবারের এক সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসিকে উদ্দেশ্য করে একটি কৃতজ্ঞতাসূচক পোস্ট দিলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। এরপর থেকেই আটবারের এই ব্যালন ডি'অর জয়ীর এমন মহানুভবতায় মুগ্ধ গোটা ফুটবল বিশ্ব। ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপটটি তৈরি হয়েছিল রাউন্ড অব ৩২-এর সেই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে। সেদিন কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে দল হারলেও সেদিন গ্লাভস হাতে রীতিমতো অতিমানবীয় পারফর্ম করে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডদের ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিলেন ভোজিনহা। একের পর এক দুর্দান্ত সেভে সবার নজর কেড়েছিলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের এমন বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে মেসি নিজেই প্রশংসা করতে ভোলেননি। সেই আবেগঘন মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ভোজিনহা জানান, ম্যাচ শেষে তিনি মেসির কাছে গেলে এই কিংবদন্তি তাকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেন। মেসি তাকে বলেন, "তুমি আজ অসাধারণ খেলেছ। তোমার দেশ আজ তোমাকে নিয়ে সত্যিই গর্ব করবে।" ভোজিনহার মতে, সর্বকালের অন্যতম সেরা একজন ফুটবলারের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া তার ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় এক প্রাপ্তি। মাঠের খেলা শেষ হওয়ার পর প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের প্রতি মেসির এই আন্তরিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে এবং প্রমাণ করেছে তিনি কেবল একজন গ্রেট ফুটবলারই নন, অনন্য হৃদয়ের এক মানুষও।