ক্রীড়া ডেস্ক
ম্যাচ শেষে প্রেস কনফারেন্সে নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করেন ইংলিশ অধিনায়ক ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টায় বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে যেন আরও একবার সেই পুরনো ট্র্যাজেডিরই পুনরাবৃত্তি দেখল ফুটবল বিশ্ব। অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার এক গোলে শুরুতে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো ইংল্যান্ডকে। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের যে স্বপ্ন থ্রি লায়ন্সরা বুনছিল, সেই ৬০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা আরও প্রলম্বিত হলো। লিওনেল মেসি ও এমিলিয়ানো মার্তিনেসদের মতো তারকাদের বিপক্ষে ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে গর্ডনের লক্ষ্যভেদে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা জোরালো করেছিল ইংলিশরা। কিন্তু লিড নেওয়ার পরই খেলার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তারা, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিতে এগিয়ে গিয়েও ঠিক এভাবেই হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়েছিল তাদের।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের কণ্ঠেও ঝরেছে সেই চিরচেনা আক্ষেপ। গোটা টুর্নামেন্টে দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করলেও শেষ ধাপ পার হতে না পারার হতাশা লুকাননি তিনি। কেইন বলেন, “আমরা বারবার সাফল্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে খেই হারিয়ে ফেলছি এবং শিরোপা নিশ্চিত করতে সেই অপূর্ণতার জায়গাটিই এখন খুঁজে বের করা জরুরি। গত ছয়-সাত সপ্তাহ ধরে দলের সবাই দারুণ একতাবদ্ধ ছিল, কিন্তু দিনশেষে শিরোপা জয়ের ওই 'শেষ টুকরোটি'-র অভাবেই আমাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।“
১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দলের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার কৌশলটিই যে কাল হয়েছে, সেটিও অকপটে স্বীকার করে নেন ইংল্যান্ডের হয়ে এই সর্বোচ্চ গোলদাতা। সতীর্থ, স্টাফ এবং অগণিত সমর্থকদের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করে তিনি জানান, “খেলোয়াড়রা মাঠে তাদের ঘাম-রক্ত সবটুকু উজাড় করে দিলেও এই পর্যায়ের ফুটবলে স্রেফ গোল আগলে রাখার চেষ্টা কখনোই যথেষ্ট নয়।“
ইংল্যান্ডের জন্য বড় মঞ্চের শেষ ধাপে এসে এমন হতাশা অবশ্য নতুন কিছু নয়; এর আগে ২০২০ ইউরোতে ইতালির বিপক্ষে টাইব্রেকারে এবং ২০২৪ ইউরোতে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয়েছিল তারা। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার কাছে এই হার ইংলিশদের আক্ষেপের ডায়েরিতে যুক্ত করল আরও একটি বিষাদময় অধ্যায়।