ক্রীড়া ডেস্ক
ক্যাসেমিরোর হেডারে আসে ব্রাজিলের প্রথম গোল ছবি: রয়টার্স
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এর এক রোমাঞ্চকর ও স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির দুর্দান্ত গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় সেলেসাওরা। এই নাটকীয় হারের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো এশিয়ান পরাশক্তি জাপান।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজেশন ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল। তবে ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে জাপানের পক্ষ থেকে। ম্যাচের ২৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করে ব্লু সামুরাইদের লিড এনে দেন কে. সানো। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় ব্রাজিল। তবে জাপানের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে আর কোনো গোল করতে পারেনি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আরও আক্রমণাত্মক রূপ নেয় সেলেসাওরা। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর এক অসাধারণ গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। ১-১ গোলে সমতা আসার পর ম্যাচটি আরও জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে ওঠে। উভয় দলই লিড নেওয়ার জন্য একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ইঞ্জুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে (৯০+৬') জাপানের ডিফেন্স ভেঙে জয়সূচক গোলটি করেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি এবং পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে দেন।
পুরো ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্রাজিল ৬১ শতাংশ বল পজেশন ধরে রেখেছিল এবং মোট ৬৭৪টি পাস সম্পন্ন করে, যার অ্যাকুরেসি ছিল ৯২ শতাংশ। অন্যদিকে জাপান মাত্র ৩৯ শতাংশ বল পজেশন পেলেও তাদের কাউন্টার অ্যাটাকগুলো ছিল বেশ বিপজ্জনক। ব্রাজিল যেখানে প্রতিপক্ষের গোলবারে ২০টি শট নেয় (যার মধ্যে ৭টি ছিল অন টার্গেট), সেখানে জাপান মাত্র ৫টি শটের মধ্যে ২টি অন টার্গেট রাখতে সক্ষম হয়।
জাপান ১১টি ফাউল এবং ৩টি ইয়েলো কার্ড পেয়ে কিছুটা আগ্রাসী ফুটবল খেললেও শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের স্কিল এবং মার্টিনেল্লির ক্লিনিকাল ফিনিশিংয়ের কাছে পরাস্ত হতে হয়। এই রোমাঞ্চকর জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিল তাদের হেক্সা মিশনের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।