ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: এআই প্রণীত
টানা তিন বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেওয়া জার্মান অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ বিশ্লেষক জোয়াখিম ক্লেমেন্টের ২০২৬ বিশ্বকাপ গাণিতিক মডেল এবার প্রথম রাতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। জনসংখ্যা, জিডিপি ও ফিফা র্যাংকিংয়ের জটিল পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে তার তৈরি বিশেষ অ্যালগরিদম জোর গলায় পূর্বাভাস দিয়েছিল—এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে নেদারল্যান্ডস। একই মডেলে বলা হয়েছিল, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল নকআউটের প্রথম ম্যাচেই (রাউন্ড অব ৩২) জাপানের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলকে চমকে দিয়ে গত এক রাতেই ওলটপালট হয়ে গেছে এই জার্মান অর্থনীতিবিদের সব হিসাব-নিকাশ।
যাদের হাতে বিশ্বকাপ ওঠার শতভাগ ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, সেই ডাচরাই মরক্কোর বিপক্ষে টাইব্রেকারের মহানাটকে হেরে ৩২ দলের রাউন্ডের প্রথম রাতেই বিদায় নিয়েছে। কোডি গাকপোর গোলে নেদারল্যান্ডস জয়ের স্বপ্ন দেখলেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সমতায় ফেরে মরক্কো। পরে স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকারে ডাচ খেলোয়াড়দের অবিশ্বাস্য তিনটি পেনাল্টি মিসের খেসারত দিয়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় ডাচরা।
অন্যদিকে ক্লেমেন্টের মডেলে যে ব্রাজিলকে নকআউটের প্রথম রাতেই বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তারা জাপানি প্রাচীর ভেঙে ঠিকই শেষ ষোলোর টিকিট কেটে নিয়েছে। প্রথমার্ধে কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ে বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছিল সেলেসাওরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর সমতাসূচক গোলের পর যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে (৯৬ মিনিট) গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির অবিশ্বাস্য এক গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
এর আগে ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের অগ্রিম তথ্য দিয়ে ফুটবল দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এই জার্মান বিশ্লেষক। তবে নিজের গাণিতিক মডেলের সীমাবদ্ধতা নিয়ে জোয়াখিম ক্লেমেন্ট নিজেই একবার বলেছিলেন—পরিসংখ্যান কেবল ৫০ শতাংশ ধারণা দেয়, বাকি অর্ধেক নির্ভর করে মাঠের ফর্ম আর ভাগ্যের ওপর। গতরাতে ডাচদের ট্র্যাজিক বিদায় আর ব্রাজিলের রোমাঞ্চকর জয় যেন প্রমাণ করল, মাঠের ফুটবল কোনো অর্থনৈতিক বা গাণিতিক ছকে বাঁধা সম্ভব নয়।