ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের (গ্রুপ কে) একটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়েছে কলম্বিয়া। পুরো ম্যাচ জুড়ে বল পজেশন এবং আক্রমণে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যূহ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে লাতিন আমেরিকার দলটিকে। অবশেষে ম্যাচের শেষভাগে ডি. মুনিয়োজের করা একমাত্র গোলটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
খেলা শুরু থেকেই কলম্বিয়া আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলেই তাদের দাপট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুরো ম্যাচে কলম্বিয়া ৬৬ শতাংশ বল পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, যেখানে ডিআর কঙ্গোর পায়ে বল ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ। আক্রমণেও কলম্বিয়া ছিল যোজন যোজন এগিয়ে। তারা প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে মোট ২০টি শট নেয়, যার মধ্যে ৯টি শটই ছিল অন টার্গেট। অন্যদিকে, ডিআর কঙ্গো মাত্র ৭টি শট নিতে সক্ষম হয়, যার মধ্যে অন টার্গেট ছিল কেবল ২টি।
মাঝমাঠে নিখুঁত পাসিংয়ের মাধ্যমে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছে কলম্বিয়া। তারা মোট ৫০৬টি পাস সম্পূর্ণ করে, যার পাস অ্যাকুরেসি ছিল ৮৮ শতাংশ। বিপরীতে ডিআর কঙ্গো ২৮১টি পাস দিতে পেরেছে এবং তাদের পাস অ্যাকুরেসি ছিল ৭৭ শতাংশ।
ডিআর কঙ্গোর জমাট রক্ষণভাগের কারণে একের পর এক আক্রমণ করেও গোল পাচ্ছিল না কলম্বিয়া। তবে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ডি. মুনিয়োজ। তাঁর করা চমৎকার গোলটিতে লিড নেয় কলম্বিয়া, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের জয়সূচক গোল হিসেবে বিবেচিত হয়।
ম্যাচটিতে শারীরিক শক্তি ও ট্যাকলের লড়াইও কম ছিল না। ডিআর কঙ্গোর ফুটবলাররা ম্যাচ জুড়ে মোট ১৭টি ফাউল করেন, যার বিপরীতে ১টি ইয়োলো কার্ড বা হলুদ কার্ড দেখতে হয় তাদের। অপরদিকে, কলম্বিয়া করেছে ১২টি ফাউল এবং দলের খেলোয়াড়রা পেয়েছেন ২টি হলুদ কার্ড। ম্যাচে কোনো রেড কার্ড বা লাল কার্ডের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া কলম্বিয়া ৭ বার অফসাইডের ফাঁদে পড়েছে এবং ৫টি কর্নার আদায় করতে পেরেছে, যেখানে ডিআর কঙ্গো কোনো অফসাইড ছাড়াই ৪টি কর্নার পেয়েছে।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে কলম্বিয়া তাদের শীর্ষস্থান ধরে রেখে নকআউট পর্বে গেলো, অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোর সামনে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার কঠিন সমীকরণ।