ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ যেন এক গোলের উৎসবে পরিণত হয়েছে। মাঠের নান্দনিক আক্রমণ আর জালের দুলুনিতে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ৬৮ বছরের পুরোনো এক কীর্তিকে স্পর্শ করল এবারের আসর।
শনিবার নেদারল্যান্ডসের ৫-১ ব্যবধানে সুইডেনকে হারানোর ম্যাচে টুর্নামেন্টের ১০০তম গোলটি করেন ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো। আর এই গোলের ওপর ভর করেই মাত্র ৩৩ ম্যাচে শততম গোলের মাইলফলকে পৌঁছে যায় ২০২৬ বিশ্বকাপ।
দ্রুততম ১০০ গোলের ইতিহাস
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত কম ম্যাচে ১০০ গোল দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের ফিরে যেতে হবে ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে। সেবারও ঠিক ৩৩ ম্যাচেই ১০০টি গোল হয়েছিল। তবে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ১০০ গোলের রেকর্ডটি এখনো ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের দখলে, যেখানে মাত্র ২০টি ম্যাচেই দলগুলো ১০০ গোল উদযাপন করেছিল।
এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচপ্রতি গোলের গড় এখন পর্যন্ত ৩.০২। গোলস্কোরিং-এর এই ধারা বজায় থাকলে ১০৪ ম্যাচের এই মেগা টুর্নামেন্ট শেষে মোট গোলসংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন ফুটবল অ্যানালিস্টরা।
গোলের এই মহোৎসবের নেপথ্যে কী?
চলতি বিশ্বকাপে গোলবন্যার পেছনে ফুটবল বিশ্লেষকরা কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:
অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’: এবারের আসরের অফিসিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’ নিয়ে গোলকিপারদের বেশ ভুগতে হচ্ছে। বলটির অস্বাভাবিক গতি এবং আচমকা বাঁক নেওয়ার (সুইং) কারণে দূরপাল্লার শট থেকে দুর্দান্ত সব গোল আসছে।
৪৮ দলের নতুন ফরম্যাট: দলসংখ্যা বাড়ায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে বেশ কিছু তুলনামূলক দুর্বল দল। ফলে বড় ব্যবধানে ম্যাচ জয়ের সংখ্যা বেড়েছে। যেমন—জার্মানির কাছে কুরাসাওয়ের ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া কিংবা কানাডার কাছে কাতারের ৬-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া।
ক্লান্তি ও ডিফেন্সের ভুল: তীব্র গরম এবং বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেকের পরেও ম্যাচের শেষভাগে ফুটবলারদের ক্লান্তি গ্রাস করছে। ফলে রক্ষণভাগে তৈরি হচ্ছে বড় ফাঁকফোকর। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি টুর্নামেন্টের প্রায় ২৯ শতাংশ গোলই এসেছে ম্যাচের ৭৬ মিনিটের পর।
সুপারস্টারদের আগুনে ফর্ম: বড় তারকাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টকে আরও জমজমাট করে তুলেছে। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকসহ কিলিয়ান এমবাপে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর্লিং হলান্ড এবং হ্যারি কেইনের নিয়মিত গোল পাওয়া এই গোলবন্যাকে আরও বেগবান করেছে।
সব মিলিয়ে, মাঠের আক্রমণাত্মক ফুটবল আর গোল উদযাপনের জোয়ারে ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিমধ্যেই ফুটবল ইতিহাসে এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।