ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'ই'-এর ইকুয়েডর বনাম কুরাসাও ম্যাচে আজ এক অবিশ্বাস্য ফুটবল লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল ক্রীড়াপ্রেমীরা। পুরো ম্যাচ জুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেও কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ এবং গোলকিপারের ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি শক্তিশালী ইকুয়েডর। আক্রমণ ও বল পজিশনে যোজন যোজন এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ০-০ গোলের গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইকুয়েডরকে। অন্যদিকে, র্যাংকিং ও শক্তিতে পিছিয়ে থাকা কুরাসাওয়ের জন্য এই ড্র যেন একটি ঐতিহাসিক জয়ের সমান।
ম্যাচের শুরু থেকেই কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ইকুয়েডর। পুরো ম্যাচে তাদের বল পজিশন ছিল আকাশচুম্বী, প্রায় ৭৫ শতাংশ। পুরো ৯০ মিনিটে ইকুয়েডর শটস নিয়েছে ২৬টি, যার মধ্যে ১৫টি শটসই ছিল অন টার্গেট। কিন্তু কুরাসাওয়ের গোলকিপার এবং ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় একটি বলও জালের দেখা পায়নি। অন্যদিকে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে কুরাসাও ১০টি শটস নেয়, যার মধ্যে অন টার্গেট শটস ছিল ৪টি।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে ম্যাচটিতে ইকুয়েডরের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারা সফলভাবে ৫৯৩টি পাস সম্পন্ন করেছে, যেখানে তাদের পাস অ্যাকুরেসি ছিল ৯২ শতাংশ। বিপরীতে কুরাসাও মাত্র ২২১টি পাস দিতে পেরেছে এবং তাদের পাস অ্যাকুরেসি ছিল ৬৮ শতাংশ। শুধু তাই নয়, ইকুয়েডর মোট ৯টি কর্নার পেলেও কুরাসাও একটি কর্নারও আদায় করতে পারেনি।
ম্যাচটিতে কুরাসাওকে মূলত ডিফেন্সিভ ট্যাকটিক্স এবং কিছুটা আগ্রাসী ফুটবল খেলতে দেখা গেছে। নিজেদের গোলপোস্ট সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়রা ১০টি ফাউল করেন, যার ফলে রেফারি তাদের ৫টি ইয়োলো কার্ড দেখাতে বাধ্য হন। অন্যদিকে ইকুয়েডর মাত্র ৭টি ফাউল করে এবং তাদের ঝুলিতে যায় ১টি ইয়োলো কার্ড। ম্যাচে কোনো দলের খেলোয়াড়কেই রেড কার্ড দেখতে হয়নি। এছাড়া অফসাইডের ফাঁদে ইকুয়েডর ১ বার এবং কুরাসাও ২ বার পড়েছে।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ টেবিলের ৩ নম্বর পজিশনে থাকা ইকুয়েডরের জন্য পরবর্তী রাউন্ডের সমীকরণ কিছুটা কঠিন হলো। আর ৪ নম্বর পজিশনে থাকা কুরাসাও এই ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল বুক ফুলিয়ে। শত চেষ্টা করেও গোল না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়েই টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচের দিকে তাকাতে হবে ইকুয়েডরকে। অন্যদিকে সামনের ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপরীতে পয়েন্ট সংগ্রহ করে পরবর্তী রাউন্ডের আশা বাঁচিয়ে রাখলো কুরাসাও।