ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রায়ান ব্রোবি দুইটি গোল করেন ছবি: রয়টার্স
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'এফ'-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। পুরো ম্যাচে বল পজিশন এবং আক্রমণে সুইডেন বেশ কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, ফিনিশিংয়ের দক্ষতায় ম্যাচটি সম্পূর্ণ নিজেদের করে নিয়েছে ডাচরা। এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষস্থান (১ম) মজবুত করল নেদারল্যান্ডস, অন্যদিকে হেরে গিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেল সুইডেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই সুইডিশ রক্ষণভাগকে চেপে ধরে নেদারল্যান্ডস। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ব্রায়ান ব্রোবি। শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ১৭ মিনিটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ২-০ করেন এই ডাচ ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় নেদারল্যান্ডস।
বিরতি থেকে ফিরেই আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ডাচরা। ৪৭ মিনিটে কোডি গাকপো গোল করে ব্যবধান ৩-০ তে নিয়ে যান। এর ঠিক ৭ মিনিট পর, অর্থাৎ ৫৪ মিনিটে গাকপো নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করে সুইডেনকে ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে দেন।
চার গোল খাওয়ার পর ম্যাচের ৫৯ মিনিটে এন্থনি ইলাঙ্গার গোলে সুইডেন ব্যবধান কিছুটা কমায় (৪-১)। তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, ৮৯ মিনিটে ক্রাইসেন্সিও সমারভিলের দুর্দান্ত এক গোলে ৫-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে নেদারল্যান্ডস।
ম্যাচের ফলাফল নেদারল্যান্ডসের পক্ষে কথা বললেও, মূল ম্যাচ স্ট্যাটস বা পরিসংখ্যানে কিন্তু সুইডেন এগিয়ে ছিল।
পুরো ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ১২টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল শটস অন টার্গেট। অন্যদিকে সুইডেন মোট ২১টি শট নেয় এবং তাদের ১০টি শট অন টার্গেট ছিল। বল পজিশনের দিক থেকে নেদারল্যান্ডস সামান্য এগিয়ে ছিল ৫২% পজিশন নিয়ে, যেখানে সুইডেনের পজিশন ছিল ৪৮%। নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়রা মোট ৩৫২টি পাস সম্পন্ন করে ৮৮% পাস অ্যাকুরেসি বজায় রাখে, আর সুইডেন ৩৮৬টি পাস খেলে ৮৪% পাস অ্যাকুরেসি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ফাউলের দিক থেকে নেদারল্যান্ডস ৯টি ফাউল করলেও কোনো কার্ড দেখেনি, তবে সুইডেন ১২টি ফাউল করে ৩টি ইয়োলো কার্ড পায়। এছাড়া অফসাইডের দিক থেকে দুই দলই ৩টি করে অফসাইড পজিশনে ছিল এবং কর্নারের ক্ষেত্রে সুইডেন ৫টি ও নেদারল্যান্ডস ২টি কর্নার আদায় করে নেয়।
পরিসংখ্যান যা-ই বলুক না কেন, ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং আর নিখুঁত পাসিংয়ের জোরে ফুটবল বিশ্বকে আরও একবার নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল ডাচরা।