ক্রীড়া ডেস্ক
ইয়োয়ানে উইসার একমাত্র গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে ড্র করে ইতিহাস গড়ে ডিআর কঙ্গো ছবি: রয়টার্স
২০২১ সাল। ফরাসি লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় ছিলেন ইয়োয়ানে উইসা। ফরাসি ক্লাব লোরিয়াঁর পাঠ চুকিয়ে যখন ইংল্যান্ডে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁর জীবনে নেমে আসে এক ঘোর অমানিশা। ফ্রান্সে নিজের ভাড়া বাসায় এক নারীর ভয়াবহ অ্যাসিড হামলার শিকার হন এই কঙ্গোলিজ ফরোয়ার্ড।
অ্যাসিডে ঝলসে যায় উইসার দুই চোখ। শুধু তা-ই নয়, হামলাকারী তাঁর পাশে থাকা ছোট্ট মেয়েটিকেও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সেই ভয়ানক রাতে হাসপাতালের অপারেশন টেবিলে শুয়ে হয়তো উইসার মনে কেবল একটিই প্রশ্ন জাগছিল—"আর কখনো কি ফুটবলটা দেখতে পাব?" চিকিৎসকেরাও আশঙ্কার বাণী শুনিয়েছিলেন, আর মাত্র কয়েক মিনিট দেরি হলে হয়তো চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতেন তিনি।
এরপর শুরু হয় জীবন বাঁচানোর লড়াই। জরুরি অপারেশন, মাসের পর মাস চোখের ব্যান্ডেজ আর চিকিৎসকদের অক্লান্ত চেষ্টায় অবশেষে উইসার চোখে আলো ফেরে। প্রকৃতির কী অদ্ভুত নিয়ম! পাঁচ বছর আগে যে চোখ দুটো অ্যাসিডে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল, সেই চোখ জোড়াই আজ মাপল ফুটবল পিচের নিখুঁত ফ্লাইট।
দীর্ঘ ৫২ বছর পর কঙ্গো যখন বিশ্বকাপের মঞ্চে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট পর্তুগালের মুখোমুখি, তখন হিউস্টনের স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের শেষ বাঁশির ঠিক আগে কর্নার পায় কঙ্গো। উড়ে আসা বলের গতিপথ চোখের পলকে মেপে নিয়ে এক দর্শনীয় হেডে পর্তুগালের জাল কাঁপিয়ে দেন উইসা। আর এই গোলের মাধ্যমেই কঙ্গোর ফুটবল ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম অমর করে নিলেন তিনি।
গ্যালারিতে তখন বসা উইসার সেই ছোট্ট মেয়েটি—যে একদিন বাবাকে ব্যথাতুর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করেছিল, "বাবা, তুমি কি আর কখনো আমাকে দেখতে পাবে?" আজ সেই বাবা শুধু মেয়েকেই নয়, পুরো বিশ্বকে দেখিয়ে দিলেন যে অ্যাসিড শরীর পোড়াতে পারলেও স্বপ্ন পোড়াতে পারে না।
গোলের পর উইসা যখন আকাশের দিকে তাকালেন, তখন হয়তো তাঁর মনে পড়ছিল সেই ব্যান্ডেজের দিনগুলোর কথা। যে আকাশটা একদিন ব্যান্ডেজের ফাঁক দিয়ে ঝাপসা দেখাত, আজ সেটাই বিশ্বকাপের আলোয় ঝকমক করছে। ইয়োয়ানে উইসা প্রমাণ করলেন, অদম্য ইচ্ছা আর সাহসের সামনে যেকোনো প্রতিবন্ধকতাই হার মানতে বাধ্য।