ক্রীড়া ডেস্ক
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান টোবাহো মকোয়েনা ছবি: রয়টার্স
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'এ'-এর একটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে চেকিয়ার জয় শেষ মূহুর্তে থামিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পর ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে এই রোমাঞ্চকর ম্যাচটি। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখেও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে।
খেলা শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে চেকিয়া। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই দলকে লিড এনে দেন চেকিয়ার তারকা ফুটবলার এম সাদিল্লেক। তার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে শুরুতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চেকিয়া। ম্যাচের শুরুর এই ধাক্কা সামলে উঠে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচ স্ট্যাটস বা পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, বল পজিশন থেকে শুরু করে আক্রমণের দিক থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার হাতেই। পুরো ম্যাচে ৬১ শতাংশ বল পজিশন নিজেদের অধীনে রেখেছিল তারা। যেখানে চেকিয়ার পাসের সংখ্যা ছিল ৩০০টি, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫৪১টি সফল পাস খেলে তাদের পাস অ্যাকুরেসি ধরে রেখেছিল ৯০ শতাংশ।
ম্যাচজুড়ে মোট ১৭টি শট নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা, যার মধ্যে ৫টি ছিল শটস অন টার্গেট। অন্যদিকে চেকিয়া মাত্র ১২টি শট নিতে সক্ষম হয় এবং তাদের শটস অন টার্গেট ছিল ৩টি। চেকিয়ার রক্ষণভাগের কঠোর ডিফেন্সের কারণে বারবার আক্রমণ করেও গোল পাচ্ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে নাটকের তখনও বাকি ছিল। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে চেকিয়ার ডিফেন্সের ভুলে পেনাল্টি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে দলকে সমতায় ফেরান টেবোহো মকোয়েনা। তার এই পেনাল্টি গোলেই হার এড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচে ফাউলের সংখ্যা ছিল বেশ ভালোই। চেকিয়া ১১টি ফাউল করে ১টি ইয়োলো কার্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ৯টি ফাউল করে ২টি ইয়োলো কার্ড পায়। এছাড়া দুটি দলই ৫টি করে কর্নার আদায় করতে পেরেছিল।
নির্ধারিত সময়ের পর রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ টেবিলের ৩ নম্বরে অবস্থান করছে চেকিয়া এবং ৪ নম্বরে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে টিকে থাকতে দুই দলের জন্যই এখন সামনের ম্যাচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।