ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'এফ'-এর ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে সুইডেন। পুরো ম্যাচ জুড়ে সুইডিশ ফরোয়ার্ডদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে রীতিমতো অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে তিউনিসিয়াকে। সুইডেনের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে জোড়া গোল করেছেন ইয়াসিন আয়ারি।
প্রথমার্ধেই জোড়া আঘাত
ম্যাচের শুরু থেকেই তিউনিসিয়া রক্ষণভাগের ওপর চেপে বসে সুইডেন। ম্যাচের মাত্র ৭ম মিনিটেই সুইডেনকে লিড এনে দেন ইয়াসিন আয়ারি। এরপর ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তারকা ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার ইসাক। তবে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ৪৩তম মিনিটে ওমর রেখিকের গোলে ব্যবধান ২-১ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল তিউনিসিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে সুইডেনের গোল উৎসব
বিরতির পর তিউনিসিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সুইডেনের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। ৫৯তম মিনিটে ভিক্টর গিওকেরেস গোল করে দলের ব্যবধান ৩-১ করেন। ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে ম্যাথিয়াস সভানবার্গ চতুর্থ গোল করলে তিউনিসিয়ার ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যায়। সবশেষে, ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৬ মিনিটে) নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোল করে তিউনিসিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ইয়াসিন আয়ারি।
ম্যাচ স্ট্যাটস: বল পজেশনে এগিয়েও চূর্ণ তিউনিসিয়া
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ৫-১ ব্যবধানের স্কোরলাইন যেমন সুইডেনের আধিপত্য প্রমাণ করে, ঠিক তেমনি ম্যাচের ভেতরের পরিসংখ্যানও তাদের কার্যকারিতার কথা বলছে। পুরো ম্যাচে বল পজেশন বা বল দখলের লড়াইয়ে তিউনিসিয়া সামান্য এগিয়ে ছিল, তাদের দখলে ছিল ৫১ শতাংশ বল এবং সুইডেনের পায়ে ছিল ৪৯ শতাংশ বল। তিউনিসিয়া মোট ৩৩১টি পাস খেলেছে এবং সুইডেন খেলেছে ৩২০টি পাস। তবে পাস অ্যাকুরেসিতে সামান্য এগিয়ে ছিল সুইডেন, তাদের সফল পাসের হার ছিল ৮২ শতাংশ এবং তিউনিসিয়ার ছিল ৮০ শতাংশ।
আক্রমণের ধার এবং কার্যকারিতার দিক থেকে তিউনিসিয়াকে সম্পূর্ণ পেছনে ফেলে দিয়েছে সুইডেন। পুরো ম্যাচে সুইডেন মোট ১৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৮টি শটই ছিল অন টার্গেট অর্থাৎ গোলপোস্ট বরাবর। বিপরীতে তিউনিসিয়া পুরো ম্যাচে মাত্র ৫টি শট নিতে পেরেছে, যার মধ্যে অন টার্গেট শট ছিল মাত্র ২টি। অফসাইডের ফাঁদে তিউনিসিয়া পড়েছে মোট ৬ বার, যেখানে সুইডেন অফসাইড হয়েছে ৩ বার। এছাড়া ম্যাচে সুইডেন ৪টি কর্নার আদায় করতে পেরেছে এবং তিউনিসিয়া পেয়েছে ২টি কর্নার। ফাউল করার দিক থেকে দুই দলই প্রায় সমান ছিল; সুইডেন করেছে ৯টি ফাউল এবং তিউনিসিয়া করেছে ৮টি ফাউল। পুরো ম্যাচে তিউনিসিয়ার খেলোয়াড়রা ১টি হলুদ কার্ড দেখলেও সুইডেনের কোনো খেলোয়াড়কে কার্ড দেখতে হয়নি।