ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: ধ্রুব গ্রাফিক্স
চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একই দিনে মাঠে নেমেছিলেন বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সেরা তিন তারকা—লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ড। এমবাপ্পে ও হালান্ড নিজ নিজ ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে জেতালেও, ফুটবল দুনিয়ার সব আলো একাই কেড়ে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে আবারও প্রমাণ করলেন—বয়সটা তাঁর কাছে স্রেফ একটি সংখ্যা মাত্র।
আলজেরিয়াকে উড়িয়ে মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিক
গ্রুপ 'জে'-এর ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের শুরু থেকেই জাদুকরী ফর্মে ছিলেন লিওনেল মেসি। ১৭তম মিনিটে নিখুঁত এক ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। এরপর ম্যাচের ৬০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং ৭৬তম মিনিটে চমৎকার এক গোল করে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একটি দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এলএম১০। মেসির এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সহজ জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
জোড়া গোল করেও আড়ালে এমবাপ্পে ও হালান্ড
একই দিনে গ্রুপ 'আই' -এর ম্যাচে সেনেগালের মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল (৬৬' এবং ৯০+৬' মিনিট) এবং ব্র্যাডলি বারকোলার (৮২' মিনিট) একটি গোলে ফ্রান্স ৩-১ ব্যবধানে জয় পায়। সেনেগালের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন ইব্রাহিম এমবায়ে (৯০+৫')।
অন্যদিকে, একই গ্রুপের আরেক ম্যাচে ইরাকের মুখোমুখি হয়েছিল নরওয়ে। নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড ম্যাচের ২৯ ও ৪৩ মিনিটে দুটি দুর্দান্ত গোল করেন। এছাড়া লিও অস্টিগার্ডের ৭৬ মিনিটের গোল এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তে (৯০+৬' মিনিটে) ইরাকের আয়মেন হুসাইনের আত্মঘাতী গোলের ওপর ভর করে নরওয়ে ৪-১ ব্যবধানে বড় জয় পায়। ইরাকের পক্ষে একমাত্র গোলটি ম্যাচের ৩৯ মিনিটে করেছিলেন এই আয়মেন হুসাইনই।
আলো কেড়ে নিলেন শুধুই মেসি
এমবাপ্পে ও হালান্ড দুজনেই বর্তমান ফুটবলের গোল স্কোরিংয়ের অন্যতম সেরা দুই নাম। একই দিনে দুজনই জোড়া গোল করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন। কিন্তু খেলা যখন ফুটবল ভক্তরা হিসাব মেলাতে বসেছেন, তখন সবার মুখে একটাই নাম—লিওনেল মেসি। যেখানে নতুন প্রজন্মের দুই তারকা জোড়া গোল করে মাঠ ছেড়েছেন, সেখানে ৩৯ বছর বয়সে এসেও বিশ্বকাপের মঞ্চে হ্যাটট্রিক করে সব লাইমলাইট নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন এই ক্ষুদে জাদুকর।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে মেসি শুধু আর্জেন্টিনাকে গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্টই এনে দেননি, বরং প্রতিপক্ষ ডিফেন্সকে একাই ধসিয়ে দিয়ে বিশ্বকে আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন—কেন তাঁকে সর্বকালের সেরা (GOAT) বলা হয়।