ক্রীড়া ডেস্ক
পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিলো আক্রমন পাল্টা আক্রমনের দৃশ্য ছবি: বাফুফে
মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্টে’ কাল রাতে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও স্বাগতিক মালদ্বীপ। মালে’র জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশের এই বাঁচা-মরার ম্যাচটির শেষ অংশ রূপ নেয় নজিরবিহীন এক রণক্ষেত্রে। রেফারি সেকারান সেন্থিলনাথনের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে সৃষ্টি হয় চরম উত্তেজনা, যা একপর্যায়ে রূপ নেয় হাতাহাতি ও মারামারিতে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, লাল কার্ড দেখতে হয় বাংলাদেশের আল-আমিন ও মিরাজুল ইসলামকে।
ফাইনালে ওঠার জন্য এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না কোচ মারুফুল হকের শিষ্যদের সামনে। তবে ম্যাচের মাত্র ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্বাগতিক মালদ্বীপ এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে বাংলাদেশও একটি পেনাল্টির জোরালো দাবি তুলেছিল, তবে তাতে রেফারির সাড়া মেলেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য মালদ্বীপের এক ডিফেন্ডারের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে দলকে সমতায় ফেরান মিরাজুল ইসলাম। এরপর জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে বাংলাদেশ একের পর এক আক্রমণ চালালেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে তখন ইনজুরি টাইমের খেলা চলছিল। বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের পিয়াস আহমেদের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যান মালদ্বীপের হাসান ইনাজ। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে মালদ্বীপের পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা।
সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করায় প্রথমে লাল কার্ড দেখেন মিরাজুল ইসলাম। এরপর মাঠের ভেতরে রেফারির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় লাল কার্ড দেওয়া হয় ফরোয়ার্ড আল-আমিনকে। কার্ড দেখার পর মেজাজ হারিয়ে রেফারিকে ধাক্কা দিয়ে বসেন আল-আমিন।
কিছুক্ষণ পর খেলা পুনরায় শুরু হলেও মাঠের পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তপ্ত। একটু পরেই বাংলাদেশের প্রান্তে বল দখলের লড়াইয়ে মালদ্বীপের ইব্রাহিম নাসির ও বাংলাদেশের মনজুরুর রহমান বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়েরা সেখানে জড়ো হয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন। শুরু হয় তুমুল হাতাহাতি ও মারামারি। মাঠের এই রণরূপ দেখে গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত দুই দলের কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অপরাজিত থেকেও বিদায় বাংলাদেশ দলের
দিনের অন্য ম্যাচে পাকিস্তান ২-০ গোলে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ ছিল—জিতলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে পৌঁছাবে দল। কিন্তু ড্র করায় ৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স-আপ হিসেবে আফগানিস্তানই ফাইনালে খেলার টিকিট পায়।
উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টের বাকি তিন দল তাদের সিনিয়র জাতীয় দল নিয়ে খেললেও, বাংলাদেশ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল অনূর্ধ্ব-২৩ বা অলিম্পিক দল নিয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনটিতেই ড্র করে অপরাজিত থেকেও আসর থেকে বিদায় নিতে হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।