ক্রীড়া ডেস্ক
অনাকাঙ্খিত বৃষ্টি থেকে পিচ রক্ষার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হোভার কাভার ছবি: সংগৃহীত
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ ও মাঠ ব্যবস্থাপনা সবসময়ই আলোচনায় থাকে। তবে এবার মাঠকে পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মানে রূপ দিতে এবং বৃষ্টির বাধা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে এক অভিনব ও ব্যয়বহুল উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেটে’ শুরু হয়েছে কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক ‘হোভার কাভার’ স্থাপনের কাজ। স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার (হেমিং) বিশেষ চাহিদার প্রেক্ষিতেই এই আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে দেশের ক্রিকেটের প্রধান ভেন্যুতে।
কেন এই হোভার কাভার এবং কী এর বৈশিষ্ট্য?
সাধারণত বৃষ্টির সময় মাঠ ঢাকতে যে ভারী পিচ কাভার ব্যবহার করা হয়, তা টেনে আনা-নেওয়ার জন্য প্রচুর জনবলের প্রয়োজন হয়। এতে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি পিচ ও আউটফিল্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়। কিন্তু ‘হোভার কাভার’ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রযুক্তিতে কাজ করে।
এটি মূলত ‘হোভারক্রাফট’ বা এয়ার-কুশন প্রযুক্তিতে চলে। কাভারের নিচের অংশে বাতাস দিয়ে একটি ভাসমান অবস্থার সৃষ্টি করা হয়, যার ফলে এটি মাটির ওপর কোনো বাড়তি চাপ না দিয়ে অনায়াসেই গ্লাইড বা ভেসে চলতে পারে। প্রথাগত কাভার সরাতে যেখানে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লেগে যায়, সেখানে হোভার কাভারের সাহায্যে মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে পুরো উইকেট ও এর চারপাশের এলাকা ঢেকে ফেলা বা উন্মুক্ত করা সম্ভব। এটি অত্যন্ত হালকা ও চওড়া হওয়ায় পিচের কোনো ক্ষতি করে না এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত মাঠের বাইরে সরিয়ে দিতে সাহায্য করে।
কিউরেটরের চাওয়াতেই এই বড় বিনিয়োগ
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, মিরপুরের মূল কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা দীর্ঘদিন ধরেই মাঠের আধুনিকায়নে এই কাভারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছিলেন। মিরপুরের উইকেট প্রায়শই অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা বৃষ্টির কারণে ভিন্ন আচরণ করে। বৃষ্টির পর দ্রুত খেলা শুরু করা এবং পিচের নিচের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য গামিনি বিসিবির কাছে এই হোভার কাভারের দাবি জানান।
তার এই চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে বিসিবি প্রায় কোটি টাকারও বেশি বাজেট বরাদ্দ করে ইংল্যান্ড থেকে এই অত্যাধুনিক কাভারটি আমদানির ব্যবস্থা করে। বর্তমানে মিরপুর স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে এই কাভারের ফিটিং এবং ট্রায়ালের কাজ চলছে।
বিশ্বের নামী-দামী স্টেডিয়াম যেমন লর্ডস বা মেলবোর্নে এই ধরনের হোভার কাভার ব্যবহার করা হয়। মিরপুরে এটি চালু হলে বাংলাদেশও মাঠ ব্যবস্থাপনায় একধাপ এগিয়ে যাবে।
বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, "হুট করে বৃষ্টি চলে আসলে খেলা অনেকক্ষণ বন্ধ রাখতে হয়, যা আন্তর্জাতিক ম্যাচ সম্প্রচার এবং ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলে। এই কোটি টাকার হোভার কাভারের ফলে এখন থেকে বৃষ্টি থামার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই খেলা মাঠে গড়াবে। গামিনি হেমিংয়ের এই পরামর্শটি আমাদের গ্রাউন্ডস কমিটির দারুণ লেগেছে এবং আমরা দ্রুত এটি বাস্তবায়ন করছি।"
সব ঠিক থাকলে আগামী আন্তর্জাতিক হোম সিরিজ থেকেই মিরপুরের মাঠে দেখা যাবে এই ভাসমান কাভারের ম্যাজিক। ওয়ানডে বা টেস্ট ক্রিকেটে বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যাওয়া সময় বাঁচিয়ে দর্শকদের আরও নিখাদ বিনোদন দিতে এই উদ্যোগ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।