ক্রীড়া ডেস্ক
পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী তারকা কাসেমিরো ছবি: বিবিসি
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর ফুটবল বিশ্বে পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে যাচ্ছেন কাসেমিরো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিকে পেছনে ফেলে অভিজ্ঞ এই তারকাকে দলে ভেড়ানোর দৌড়ে জয়ী হতে যাচ্ছে ডেভিড বেকহ্যামের মায়ামি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে লিওনেল মেসির সাথে একই দলে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকে।
চলতি গ্রীষ্মে ওল্ড ট্রাফোর্ড ছাড়ার পর ৩৪ বছর বয়সী কাসেমিরোর সামনে বেশ কয়েকটি ক্লাবের প্রস্তাব ছিল। তবে ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ জানিয়েছে, সব প্রস্তাবের মধ্যে কাসেমিরো ফ্লোরিডার এই ক্লাবটিকেই নিজের পরবর্তী ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী এই তারকা গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দারুণ ছন্দে ছিলেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্লাবের আগ্রহ থাকলেও মায়ামির উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টই শেষ পর্যন্ত তাকে আকর্ষণ করেছে। এর ফলে লিওনেল মেসি, রদ্রিগো ডি পল এবং জার্মান বারতেরামের মতো তারকাখচিত স্কোয়াডে যুক্ত হতে যাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।
চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত হলেও এর পেছনে কিছু নিয়মকানুন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমএলএস-এর নিয়ম অনুযায়ী, কাসেমিরোর ‘ডিসকভারি রাইটস’ বা প্রথম আলোচনার অধিকার রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সির কাছে। এই নিয়মের কারণে গ্যালাক্সিই কাসেমিরোর সাথে চুক্তি করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা এবং তারা এই তারকাকে ক্যালিফোর্নিয়ায় নেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি চুক্তিপত্রও জমা দিয়েছিল।
এমএলএস মূলত এই নিয়মটি চালু করেছে যাতে একই আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়কে দলে নিতে গিয়ে লিগের ভেতরের ক্লাবগুলো নিজেদের মধ্যে নিলামের মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে না ফেলে। তবে কাসেমিরো নিজে মায়ামিতে যোগ দিতে নাছোড়বান্দা হওয়ায় বিষয়টি এখন একটি অচল অবস্থায় রূপ নিয়েছে। এই জটিলতা কাটাতে ইন্টার মায়ামিকে এখন গ্যালাক্সিকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যেমনটা দুই মৌসুম আগে মার্কো রয়েসকে দলে ভেড়ানোর সময় শার্লট এফসি-কে চার লাখ ডলার দিয়ে সমাধান করেছিল লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি।
ইন্টার মায়ামির জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাধা হলো তাদের স্কোয়াডে কোনো ‘ডেজিগনেটেড প্লেয়ার’ (ডিপি) বা বিশেষ বেতনভুক্ত খেলোয়াড়ের জায়গা ফাঁকা নেই। মেসি এবং অন্যান্য তারকারা ইতিমধ্যে এই কোটা পূরণ করে রেখেছেন। যার ফলে নিয়ম অনুযায়ী কাসেমিরোর প্রাথমিক বেতন বর্তমান মৌসুমের জন্য ২০ লাখ ডলারের কম হতে হবে।
এই আর্থিক সীমাবদ্ধতা এড়াতে মায়ামি ২০২৩ সালে জর্ডি আলবাকে দলে নেওয়ার কৌশলটি আবারও ব্যবহার করতে যাচ্ছে। তারা ‘টার্গেটেড অ্যালোকেশন মানি’ (ট্যাম) ব্যবহার করে কাসেমিরোকে আপাতত দলে নেবে। পরবর্তীতে দলের ভেতরে জায়গা খালি হলে তাকে ডেজিগনেটেড প্লেয়ারের মর্যাদা দেওয়া হবে। ক্লাবের পক্ষ থেকে এমন একটি চুক্তি প্রস্তুত করা হচ্ছে যেখানে প্রথম দিকে বেতন কম থাকলেও পরবর্তীতে শর্তসাপেক্ষে তা অনেক বৃদ্ধি পাবে।
চলতি মৌসুমে প্রধান কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানোর বিদায়ের পর মায়ামি দল গোছাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর তাই মায়ামির ম্যানেজমেন্টের এমন চতুর ও কৌশলী দলবদল নীতি ক্লাবটিকে আরও একবার বড় সাফল্য এনে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছে।