ক্রীড়া ডেস্ক
কাই হাভার্টজের একমাত্র হেডারে ১-০ গোলে জয় পায় আর্সেনাল ছবি: আর্সেনাল অফিসিয়াল
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা এখন আর্সেনালের হাতের মুঠোয়। এমিরেটস স্টেডিয়ামে বার্নলিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে লিগ জয়ের ঠিক এক ম্যাচ দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে মিকেল আরতেতার দল। তবে ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা কাই হাভার্টজ যেভাবে লাল কার্ডের হাত থেকে বেঁচে গেছেন, তাতে ম্যাচটি আর্সেনাল সমর্থকদের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনই চরম স্নায়ুচাপের ছিল।
এই জয়ের ফলে ২০০৪ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে গানার্সদের সামনে। আগামী মঙ্গলবার ম্যানচেস্টার সিটি যদি বোর্নমাউথের মাঠে জয় পেতে ব্যর্থ হয়, তবে মাঠে না নেমেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে আর্সেনাল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে করা জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজের গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের একটি ঘটনা ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারত। বার্নলির খেলোয়াড় লেসলি উগোচুকউকে একটি বিপজ্জনক ট্যাকল করে বসেন হাভার্টজ। তার বুটের স্পাইক সরাসরি উগোচুকউয়ের কাফে আঘাত হেনেছিল।
ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বিষয়টি পর্যালোচনা করলেও মাঠের রেফারি পল টিয়ারনিকে পিচসাইড মনিটর দেখার জন্য ডাকা হয়নি। ভিডিও রেফারি জেমস বেল শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন যে ফাউলটি লাল কার্ড দেওয়ার মতো মারাত্মক ছিল না। ফলে বড় বাঁচা বেঁচে যান হাভার্টজ। ম্যাচ শেষ হওয়ার ২০ মিনিট আগে আর্সেনাল ১০ জনের দলে পরিণত হলে শিরোপার স্বপ্ন সেখানেই ভেস্তে যেতে পারত। এই যাত্রায় বেঁচে যাওয়ায় আগামী রবিবার ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন এই জার্মান তারকা।
ইতিমধ্যেই রেলিগেটেড বা অবনমিত হয়ে যাওয়া বার্নলির বিপক্ষে এই ম্যাচটিতে আর্সেনালের বড় ব্যবধানে জেতার দরকার ছিল। কিন্তু তারা মাত্র ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় পাওয়ায় গোল ব্যবধানের (গোল ডিফারেন্স) সুবিধা নিতে পারেনি। বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনাল—উভয় দলেরই গোল ব্যবধান সমান (+৪৩)।
যদি আরতেতার শিষ্যরা আজ বড় ব্যবধানে জিততে পারত, তবে শেষ ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ড্র করলেই তাদের শিরোপা নিশ্চিত হতো। কিন্তু মাত্র এক গোলের ব্যবধানে জেতায় এখন শেষ ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। সাম্প্রতিক সময়ে এভাবে বারবার অল্পের জন্য পার পেয়ে যাওয়া আর্সেনাল যদি শেষ ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে পয়েন্ট হারায়, তবে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের বাকি দুই ম্যাচ (বোর্নমাউথ ও অ্যাস্টন ভিলা) জিতে শিরোপা ছিনিয়ে নিতে পারে।
ইতিহাস গড়ার দোড়গোড়ায় আরতেতার দল
ম্যাচ শুরুর আগে এমিরেটসের গ্যালারিতে সমর্থকেরা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যেখানে লেখা ছিল—"ইতিহাস গড়তে আর মাত্র তিন ম্যাচ।" সেই তিনটির একটিতে জয় এসেছে। এখন আর মাত্র দুটি জয় পেলেই আর্সেনাল একই সাথে প্রিমিয়ার লিগ এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ঐতিহাসিক ডাবল ট্রফি ঘরে তুলতে পারবে।
আগামী রবিবার সেলহার্স্ট পার্কে ক্রিস্টাল প্যালেসকে হারাতে পারলেই ম্যানচেস্টার সিটির ফলাফলের দিকে না তাকিয়েই চ্যাম্পিয়ন হবে আর্সেনাল। ক্রিস্টাল প্যালেসের কোচ অলিভার গ্লাজনার জানিয়েছেন, তারা আর্সেনালকে ছেড়ে কথা বলবেন না। তবে প্যালেসের সামনে এর ঠিক তিন দিন পরেই রয়েছে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে উয়েফা কনফারেন্স লিগের ফাইনাল। সেই ম্যাচটি জিতলে তারা উয়েফা ইউরোপা লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। তাই প্যালেস তাদের মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেবে কিনা, তা দেখার বিষয়।
সব মিলিয়ে সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ আর্সেনালের নিজের হাতে। মৌসুম শুরুর আগে মিকেল আরতেতাকে যদি বলা হতো—শেষ ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসকে হারালেই তোমরা চ্যাম্পিয়ন হবে, তবে তিনি সানন্দেই সেই সুযোগ লুফে নিতেন। গানার্সরা এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে।