ক্রীড়া ডেস্ক
বার্সেলোনায় নিজের শেষ দিনে ক্যাম্প ন্যু-র ঘাসে বসে স্মৃতিচারণ করতে দেখা যায় লেওয়ানডস্কি-কে ছবি: বার্সা অফিসিয়াল
সাধারণত নিজের শৈশবের বা প্রিয় ক্লাবকে বিদায় জানানোর সময় ফুটবলারদের মধ্যে যে তীব্র আবেগ দেখা যায়, গতকাল সেটাই ফিরিয়ে আনলেন রবার্ট লেওয়ানডস্কি। অথচ বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যুতে যখন তিনি এসেছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ৩৪ বছর। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসেও মাত্র ৪ বছরেই এই ক্লাবের প্রতি তার এমন এক গভীর ভালোবাসা আর টান তৈরি হয়েছে, যা সাধারণত বহু বছরের পুরোনো সম্পর্কেই দেখা যায়। গতকালকের বিদায়ী রাতটি যেন সেই ভালোবাসারই এক পরম বহিঃপ্রকাশ।
স্থানীয় সময় রাত ১২টা বেজে ৮ মিনিটে যখন ক্যাম্প ন্যু ছাড়ার সময় এলো, তখন লেওয়ানডস্কির মনে হচ্ছিল যেন এক অদ্ভুত শূন্যতা। স্টেডিয়াম ছেড়ে এখনই চলে যেতে মন সায় দিচ্ছিল না তার। পরিবার ও কাছের বন্ধুদের সাথে নিয়ে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে বেড়ালেন ক্যাম্প ন্যুর সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে। মাঠের প্রতিটি কোনায় পা রেখে যেন স্মৃতিরোমন্থন করছিলেন এই পোলিশ স্ট্রাইকার।
বিদায়ের বিষাদকে একপাশে ঠেলে রেখে প্রিয়জনদের সাথে গান গেয়েছেন, মেতে উঠেছেন নাচে। ফ্রেমবন্দি করেছেন শত শত মুহূর্ত। ক্যাম্প ন্যুর শেষ মুহূর্তের প্রতিটি অনুভূতি, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস যেন নিজের হৃদয়ে আজীবনের জন্য জমিয়ে রাখতে চাইছিলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, ক্লাবের মাঠকর্মী থেকে শুরু করে প্রতিটি স্টাফের সাথে আলাদা আলাদাভাবে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন লেওয়ানডস্কি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি তাদের প্রতি, যারা পর্দার আড়ালে থেকে তাকে প্রতিনিয়ত সমর্থন জুগিয়েছেন।
মাঠের আলো নিভে আসছিল, কিন্তু লেওয়ানডস্কির চোখ বলছিল অন্য কথা—তিনি যেন কোনোভাবেই এই চেনা আঙিনা ছেড়ে যেতে চাইছেন না। মনে হচ্ছিল, রাতটা যদি এখানেই থমকে যেত! কিন্তু সময় তো আর কারো জন্য অপেক্ষা করে না, তা বয়ে চলে আপন গতিতে। এক বুক স্মৃতি আর ক্যাম্প ন্যুর প্রতি চিরন্তন ভালোবাসা নিয়ে অবশেষে বিদায় নিতেই হলো এই আধুনিক ফুটবলের মহানায়ককে।