ক্রীড়া ডেস্ক
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচের ওপর রড ও মোটা কাপড় দিয়ে গ্রিন হাউজ ইফেক্ট ব্যবহার করতে দেখা গেছে ছবি: সংগৃহীত
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচের ওপর রড ও মোটা কাপড় দিয়ে ঢাকা অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখা গেছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ কোনো ছাউনি মনে হলেও, মূলত এটি আধুনিক পিচ প্রকৌশলের একটি বিশেষ পদ্ধতি, যার নাম ‘ক্ষুদ্র গ্রিনহাউস প্রভাব’। ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে যেখানে বৃষ্টির দাপট বেশি, সেখানে ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী উইকেট তৈরির জন্য এই কৌশল ব্যবহার করা হয়। এবার সিলেটে অভিজ্ঞ কিউরেটর টমি হেমিংসের তত্ত্বাবধানে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
সিলেটের আবহাওয়ায় অনেক সময় পিচের সব অংশ সমানভাবে শুকায় না। যদি কোনো এক অংশ দ্রুত শুকিয়ে যায়, তবে উইকেটে অসম বাউন্স দেখা দেয়, হঠাৎ করে বলের দিক পরিবর্তন হয় এবং সময়ের আগেই ফাটল ধরে। আমাদের অঞ্চলের এঁটেল মাটির আর্দ্রতা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে উইকেটের উপরিভাগ ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
এই ‘ক্ষুদ্র গ্রিনহাউস’ পদ্ধতির মাধ্যমে উইকেটের ওপর একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ধরে রাখা হয়। এতে মাটি খুব দ্রুত শুকায় না, আবার অতিরিক্ত ভেজাও থাকে না। সহজ কথায়, উইকেটকে এমনভাবে ‘লালন-পালন’ করা হয় যাতে ম্যাচের দিন তা প্রাণবন্ত ও টেকসই থাকে।
বিশ্বকাপের আগে অপ্রতিরোধ্য মেসি, মায়ামির বড় জয়
উইকেটে যা প্রভাব পড়বে
এই নিয়ন্ত্রিত আর্দ্রতা পিচের ঘাস সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে:
পেসারদের সুবিধা: উইকেটে বাড়তি গতি ও বাউন্স পাওয়া যাবে।
ব্যাটারদের জন্য সহায়ক: বল ব্যাটে সমানভাবে আসবে, যা শট খেলার জন্য আদর্শ।
মাটির বন্ধন: এই পদ্ধতিতে মাটির বাঁধন শক্ত থাকে, ফলে পিচ সহজে ভেঙে যায় না।
দীর্ঘস্থায়ী লড়াই: ম্যাচের শুরুর দিকে পেসাররা সুবিধা পেলেও শেষের দিকে স্পিনাররাও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারবেন। একটি আদর্শ টেস্ট উইকেটের সব গুণাগুণ এতে বিদ্যমান।
পেস-সংস্কৃতির পথে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত। দীর্ঘ সময় ধরে ধীরগতির ও স্পিন-সহায়ক উইকেটে খেলার যে প্রবণতা ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার এটাই সঠিক সময়। গত কয়েক বছরে পেস বোলিংই বাংলাদেশের প্রধান শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি করতে হলে পেস-বান্ধব উইকেটে খেলার কোনো বিকল্প নেই।
এই ধরনের উইকেটে খেলে অভ্যস্ত হলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের গতির বিরুদ্ধে খেলার সক্ষমতা এবং হাত ও চোখের সমন্বয় আরও উন্নত হবে। কিউরেটর টমি হেমিংসের এই পরিশ্রম বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সঠিক পথে পরিচালিত করছে, যার সুফল অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দল অবশ্যই পাবে।