ক্রীড়া ডেস্ক
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে উন্মাদনা এখনই তুঙ্গে। তবে এবারের আসরটি কেবল মাঠের লড়াইয়ের জন্যই নয়, বরং আর্থিক লেনদেনের বিশাল অংকের কারণেও ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্লাব ফুটবলের দলগুলোর জন্য এবারের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে এক বিশাল আয়ের উৎস। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্ব শেষ হতেই ক্লাবগুলোর পকেটে ঢুকতে যাচ্ছে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
ফিফার বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য ফিদা তার ক্লাবকে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিবে। হিসাব অনুযায়ী, একজন খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে যতদিন বিশ্বকাপে ব্যস্ত থাকবেন, তার ক্লাব প্রতিদিনের জন্য পাবে প্রায় ১১ হাজার ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১৩ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা।
এবারের বিশ্বকাপের কলেবর বাড়ছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অংশ নিতে যাচ্ছে। প্রতিটি দলে ২৬ জন করে খেলোয়াড় থাকলে টুর্নামেন্টে মোট ফুটবলারের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১,২৪৮ জন। এই বিপুল সংখ্যক খেলোয়াড়ের পেছনেই ফিফাকে খরচ করতে হবে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ।
কোনো খেলোয়াড় যদি কেবল গ্রুপ পর্ব পর্যন্তও টুর্নামেন্টে টিকে থাকেন, তবে তিনি তার ক্লাবের জন্য আয় করে আনবেন প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৫ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, দলের সাফল্য আসুক বা না আসুক, খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ক্লাবগুলো আর্থিকভাবে দারুণ লাভবান হতে যাচ্ছে।
মূলত ঘরোয়া মৌসুমের মাঝপথে বা শেষে খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেওয়ার কারণে ক্লাবগুলোর যে ক্ষতি হয়, তা পুষিয়ে দিতেই ফিফা এই 'ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম' বা ক্লাব সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। তবে এবারের দল সংখ্যা বাড়ায় সেই অংকটা আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু মাঠের ফুটবল নয়, বরং মাঠের বাইরের অর্থনৈতিকেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।