ক্রীড়া ডেস্ক
ক্রিস কোলম্যান আর কিট সিমন্সের পুরোনো জুটি আবার দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ডাগআউটে ছবি: বিবিসি
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন ওয়েলসের কিংবদন্তি কোচ ক্রিস কোলম্যান। তবে ডাগআউটে কেবল একা নন, নিজের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সেনাপতিকে সাথে নিয়েই ঢাকায় পা রাখতে চাইছেন তিনি। কোলম্যানের নতুন এই 'মিশনে' সহকারী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে সাবেক ফুলহাম বস কিট সিমন্সের।
ওয়েলস জাতীয় দলে কোলম্যানের অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে মূল কারিগর ধরা হয় কোলম্যান-সিমন্স জুটিকে। কোলম্যান যখন ওয়েলসের হেড কোচ ছিলেন, তখন তার ডানহাত হিসেবে ট্যাকটিকাল বোর্ড সামলেছেন এই কিট সিমন্স। তাদের সেই পুরনো বোঝাপড়া এবার লাল-সবুজের ডাগআউটে দেখার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মূলত নিজের গেমপ্ল্যান এবং ট্যাকটিকাল সিস্টেমকে শতভাগ কার্যকর করতেই সিমন্সকে পাশে চাইছেন কোলম্যান।
কোচিং এবং খেলোয়াড়ি জীবন—উভয় ক্ষেত্রেই কিট সিমন্স ফুটবলের এক পরিচিত নাম। ফুটবল বিশ্বে তার পরিচিতি কেবল একজন সহকারী হিসেবেই নয়, বরং একজন অভিজ্ঞ লিডার হিসেবেও। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ফুলহামের মতো হাই-প্রোফাইল ক্লাবে ২০১৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এরপর প্রিমিয়ার লিগের আরেক ক্লাব সান্ডারল্যান্ডেও ক্রিস কোলম্যানের প্রধান সহকারী হিসেবে কাজ করার বড় অভিজ্ঞতা রয়েছে তার ঝুলিতে।
কোচিংয়ে আসার আগে মাঠ কাঁপানো ডিফেন্ডার হিসেবেও সিমন্সের নামডাক ছিল। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ম্যানচেস্টার সিটি, ক্রিস্টাল প্যালেস এবং ফুলহামের মতো বড় ক্লাবের রক্ষণভাগ সামলেছেন। এছাড়া ওয়েলস জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) চাচ্ছে জাতীয় দলের চেহারা বদলে দিতে। আর কোলম্যানের মতো হাই-প্রোফাইল কোচের সাথে যদি কিট সিমন্সের মতো অভিজ্ঞ কেউ যোগ দেন, তবে তা বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও ট্যাকটিকাল উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
কোলম্যান ও সিমন্সের এই পুরনো এবং পরীক্ষিত জুটি যদি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দায়িত্ব বুঝে নেন, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। এখন দেখার বিষয়, বাফুফের এই 'মাস্টারপ্ল্যান' কবে নাগাদ আলোর মুখ দেখে।