ক্রীড়া ডেস্ক
প্রথম চালক হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম তিনটি পোল পজিশনকে টানা জয়ে রূপান্তর করে ইতিহাস গড়লেন কিমি আন্তোনেল্লি ছবি: এফ১ অফিসিয়াল
মায়ামির রাজপথে গতির লড়াইয়ে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন কিমি আন্তোনেল্লি। মার্সিডিজের এই তরুণ ম্যাকলারেনের ল্যান্ডো নরিসকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হারিয়ে চলতি মৌসুমের টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছেন। সেই সাথে প্রথম চালক হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম তিনটি পোল পজিশনকে টানা জয়ে রূপান্তর করে ইতিহাস গড়লেন এই ইতালীয় তারকা।
রেসের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। পোল পজিশন থেকে শুরু করা আন্তোনেল্লি প্রথম মোড়েই ম্যাক্স ভারস্ট্যাপেন ও চার্লস ল্যাকলার্কের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। প্রথম বাঁকেই চাকা পিছলে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান ভারস্ট্যাপেন ও আন্তোনেল্লি। এই সুযোগে ল্যাকলার্ক লিড নিলেও ভারস্ট্যাপেন স্পিন করে পেছনের সারিতে চলে যান।
রেসের শুরুর কয়েক পাকের মধ্যেই ইসাক হাজার ও পিয়েরে গ্যাসলি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়লে মাঠে 'সেফটি কার' নামাতে হয়। গ্যাসলির গাড়িটি উল্টে গেলেও চালকরা অক্ষত ছিলেন। এই বিশৃঙ্খলার মাঝে লিড বারবার হাতবদল হতে থাকে। আন্তোনেল্লি, ল্যাকলার্ক, নরিস ও অস্কার পিয়াস্ত্রি—সবাই কিছু সময়ের জন্য রেসের নেতৃত্বে ছিলেন।
রেসের মাঝামাঝি সময় থেকে লড়াইটা মূলত আন্তোনেল্লি ও ল্যান্ডো নরিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নরিস আন্তোনেল্লির ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছিলেন। তবে স্নায়ুচাপ সামলে রেখে ৩.২৬৪ সেকেন্ডের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন আন্তোনেল্লি। নরিস দ্বিতীয় এবং শেষ দুই পাকের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পিয়াস্ত্রি তৃতীয় হয়ে পোডিয়ামে জায়গা করে নেন।
ফেরারি চালক চার্লস ল্যাকলার্কের জন্য দিনটি ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার। এক পর্যায়ে জয়ের দৌড়ে থাকলেও শেষ দিকে তিনি চাকা পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারান। চতুর্থ স্থানে থাকা অবস্থায় বারবার সীমানা লঙ্ঘন করার দায়ে তাকে ২০ সেকেন্ডের দণ্ড দেওয়া হয়, ফলে তিনি অষ্টম স্থানে নেমে যান। এই সুযোগে মার্সিডিজের জর্জ রাসেল চতুর্থ এবং ভারস্ট্যাপেন পঞ্চম স্থান দখল করেন।

অন্যান্যদের মধ্যে:
ফ্রাঙ্কো কোলাপিন্টো: আলপাইন দলের হয়ে সপ্তম হয়ে মূল্যবান পয়েন্ট অর্জন করেন।
কার্লোস সাইঞ্জ ও অ্যালেক্স অ্যালবন: উইলিয়ামসের হয়ে যথাক্রমে নবম ও দশম স্থান অর্জন করেন।
লুইস হ্যামিল্টন: রেসের শুরুতে সংঘর্ষের কারণে গাড়িতে সমস্যা সত্ত্বেও সপ্তম স্থানে শেষ করেন।
বৃষ্টির আশঙ্কায় রেসটি নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগে শুরু করা হয়েছিল। মেঘলা আকাশ আর গুমোট আবহাওয়ায় টায়ার নির্বাচনের বিষয়টি দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ চালকই এক বার চাকা পরিবর্তন করার কৌশল অবলম্বন করেন।
এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নশিপ লড়াইয়ে আন্তোনেল্লি নিজের অবস্থান আরও মজবুত করলেন। আগামী রেসগুলোতে এই তরুণ তারকার জয়যাত্রা অব্যাহত থাকে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।