আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে গেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচনে তৃণমূলের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে দলটির মন্ত্রীসভার বিপর্যয়। সরকারে থাকা ৩৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ২২ জনই নিজ নিজ আসনে পরাজিত হয়েছেন। অর্থাৎ, প্রায় ৬৩ শতাংশ মন্ত্রীই জনগণের রায় পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
পরাজিতদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ভবানীপুর আসনে তিনি পরাজিত হয়েছেন। তার মন্ত্রিসভার হেভিওয়েট সদস্যদের মধ্যে অরূপ বিশ্বাস, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা এবং সুজিত বসুর মতো প্রভাবশালী নেতারাও হেরে গেছেন। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন—ইন্দ্রনীল সেন, বেচারাম মান্না, স্বপন দেবনাথ, বুলু চিক বরাইক, প্রদীপ মজুমদার, বীরবাহা হাঁসদা, মানস ভুঁইয়া, মলয় ঘটক, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, উদয়ন গুহ, সন্ধ্যারানি টুডু, বঙ্কিম হাজরা, উজ্জ্বল বিশ্বাস, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, শ্রীকান্ত মাহাতো ও সত্যজিৎ বর্মণ। আবাসন, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, শিল্প ও পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা এই মন্ত্রীদের পরাজয় তৃণমূলের জন্য বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আগামী ৯ মে অর্থাৎ রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই দিনটিকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন ও প্রতীকী সূচনা করতে চাইছে বিজেপি। নির্বাচনে ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি দল সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, যারা কেন্দ্রেও ক্ষমতায় রয়েছে।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কে শপথ নেবেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়া দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গাঙ্গুলি এবং শঙ্কর ঘোষের নামও আলোচনায় রয়েছে। ২০১১ সালে মাত্র ৪ শতাংশ ভোট পাওয়া বিজেপি ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে। ২০১৯ সালে ৪০ শতাংশ ভোট এবং ২০২১ সালে ৭৭টি আসন পাওয়ার পর এবারের নির্বাচনে তারা বিপুল জনসমর্থন পেল।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে” এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিজেপি অঙ্গীকারবদ্ধ। অন্যদিকে, পরাজয় মেনে নিলেও ফলাফল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, ১০০টিরও বেশি আসনে ফলাফল “লুট” করা হয়েছে। তাঁর এই অভিযোগকে সমর্থন জানিয়ে রাহুল গান্ধীও দাবি করেছেন, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল “চুরি” করা হয়েছে। তবে অভিযোগ সত্ত্বেও তৃণমূল নেত্রী হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, “আমরা আবার ফিরে আসব।”